Image description

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় ছোট-বড় অনেক খাল রয়েছে। এর মধ্যে পিলটকাটা, ওলুহালী, বাঘখালী, তবলরচর, কুমিরা ছড়া, গাইনাকাটা, কাজীর খাল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। পিলটকাটা এ দ্বীপের সর্ববৃহৎ খাল। এটা দখল করে স্থাপনা, মাছের ঘের ও লবণের মাঠ তৈরি করেছেন প্রভাবশালীরা। এ ছাড়া অন্য প্রায় সব খালই বলা যায় দখল হয়ে গেছে। এসব খালে বর্তমানে লবণের মাঠ, বিভিন্ন স্থাপনা ও মাছের ঘের তৈরি করায় পানির প্রতিবন্ধকা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে, কয়েক যুগ আগেই এ দ্বীপের খালগুলোতে দখলদারি ছিল না। ফলে, খালগুলোর গভীরতার কারণে বছরজুড়েই পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যেত। তখন এই দ্বীপে বিশুদ্ধ পানির সংকটও বর্তমানের চেয়ে তুলনামূলক কম ছিল। এখন দখলবাজদের কারণে খালগুলো মরাখালে পরিণত হওয়ায় দ্বীপজুড়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জিম্মি হয়ে পড়ছে দ্বীপের জনজীবন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের কাজীর খাল ৩ কিলোমিটার ও পিলটকাটা খাল ১৫ কিলোমিটার খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনাটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, গত বছর মাছের ঘের নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে মোহাম্মদ বাপ্পী নামের এক যুবককে হত্যা করা হয়। এ কারণে চলতি বছর প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে পিলটকাটা খালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে। চাষী জাফর আলম, ইকবাল হাসান, করিম উল্লাহসহ অনেকেই বলেন, একসময় এসব খালে বছরজুড়েই পানি থাকত। সেই পানি ব্যবহার করে লবণ উৎপাদন করতাম। খালের পানিতে গোসলসহ নিত্যদিনের কাজ করা হতো। কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ফরিদ আলম, সজীব ও রিয়াজসহ অনেকেই জানান, একসময় এসব খালে মাছ ধরে তাদের জীবিকা চলত। দখলবাজদের কারণে এখন মৃত খালে পরিণত হয়েছে। যে যেমন পারছে দখল করে দোকান, ভবন, লবণ চাষ করছে। এখন পানি নেই বললেই চলে। দ্রুত খনন না করলে খালগুলো পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।

স্থানীয় সংবাদকর্মী এআর. আব্বাস সিদ্দিকী জানান, এ দ্বীপে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। যার বড় কারণ খালগুলো দখল হয়ে যাওয়া। এগুলো পুনরুদ্ধার করে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনলে বিশুদ্ধ পানির সংকট কিছুটা হলেও দূর হবে। শুধু খনন করলেই হবে না। দখলমুক্ত করতে হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১২টির মতো খাল খননের কাজ চলমান।

পর্যায়ক্রমে কুতুবদিয়া উপজেলার কয়েকটি খাল খনন করা হবে। খাল খনন ও পুনঃখননে বর্ষায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।