Image description

জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণ দেখিয়ে তিন মাস আগে বহিষ্কার করা হয় নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক (সাবেক) আরেফিন আলীকে। বহিষ্কারের তিন মাস পর তাকে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

শনিবার (২ মে) জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি অনুমোদন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। একই দিন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আরেফিন আলীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের তথ্য জানানো হয়।

 

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের বিপক্ষে স্বতন্ত্র ‘ফুটবল’ প্রতীকের প্রার্থী তানভীর উদ্দিন রাজিবের পক্ষে কাজ করেন আরেফিন আলী। তিনি ওই প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তাকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

 

অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রকাশ্যে বিরোধী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা একজন নেতাকে কীভাবে এত দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলো। কী প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

 

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও নবগঠিত জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কেউ দায়িত্ব পেলে তা একনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের জন্য কষ্টের ও দুঃখজনক।

 

উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুল হালিম বলেন, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ছিল দলের শুদ্ধতার প্রতীক। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যদি পরে উপেক্ষিত হয়, তাহলে শৃঙ্খলার জায়গাটা কোথায় থাকে? যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে, তাদের অবমূল্যায়ন করা হলে ভবিষ্যতে কেউ ত্যাগ স্বীকার আগ্রহী হবে না।

 

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফাহিম উদ্দিন বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রমের উদ্দেশ্য কর্মীদের উৎসাহিত করা। সেখানে কেউ সরাসরি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করে আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে এলে তা কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে। এতে কর্মীরা নিরুৎসাহিত হবে। কিছু নেতার ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে।