Image description

আইপিএল ইতিহাসে অন্যতম বড় পটপরিবর্তন ঘটে গেল। ২০ হাজার কোটি টাকার (১.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) অবিশ্বাস্য মূল্যে বিক্রি হয়ে গেল রাজস্থান রয়্যালস। দলটির নতুন মালিক হিসেবে নাম লেখালেন ভারতের প্রখ্যাত শিল্পপতি তথা স্টিল টাইকুন লক্ষ্মী মিত্তাল এবং সেরাম ইনস্টিটিউটের কর্ণধার আদর পুনাওয়ালা। আজ রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে এই মালিকানা হস্তান্তরের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন এই কনসোর্টিয়ামে মিত্তাল পরিবারের হাতে থাকবে সিংহভাগ ৭৫ শতাংশ শেয়ার। আদর পুনাওয়ালা ধারণ করবেন ১৮ শতাংশ। বর্তমান মালিক মনোজ বাদালেসহ পুরনো বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকবে অবশিষ্ট ৭ শতাংশ।

শুধু আইপিএলের রাজস্থান রয়্যালসই নয়, এই চুক্তির আওতায় দক্ষিণ আফ্রিকার এসটি২০ লিগের পার্ল রয়্যালস এবং ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের বার্বাডোজ রয়্যালস-এর মালিকানাও মিত্তাল-পুনাওয়ালা জুটির হাতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে আইপিএলের শুরুতে মনোজ বাদালের ‘ইমার্জিং মিডিয়া’ মাত্র ৬৭ মিলিয়ন ডলারে রাজস্থান রয়্যালস কিনেছিল। ১৮ বছরের ব্যবধানে দলটির মূল্য বেড়েছে প্রায় ৫৮ গুণ!

 

গত মার্চ মাসে একটি মার্কিন কনসোর্টিয়াম (যাতে এনএফএল দল ডেনভার ব্রঙ্কোস ও ডেট্রয়েট লায়ন্সের মালিকরা ছিলেন) ১.৬৩৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়ে প্রায় চুক্তি পাকা করে ফেলেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে লক্ষ্মী মিত্তালের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ সেই প্রস্তাবকে ছাড়িয়ে গিয়ে মালিকানা ছিনিয়ে নেয়। এর আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সহ-মালিক আব্রাম গ্লেজার এবং আদিত্য বিড়লা গ্রুপও এই দৌড়ে ছিল।

 
 

লক্ষ্মী মিত্তালের জন্ম রাজস্থানের সাদুলপুরে। নিজের জন্মভূমির দলের মালিকানা পেয়ে উচ্ছ্বসিত এই বিলিয়নেয়ার। তিনি বলেন, ‘আমি ক্রিকেট খুব ভালোবাসি এবং আমার পরিবার রাজস্থানের। তাই আইপিএলের কোনো দল বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলে আমি সব সময় রাজস্থান রয়্যালসের সাথেই থাকতে চাইব।’

 

২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে এই বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। নতুন বোর্ডে লক্ষ্মী মিত্তালের পাশাপাশি থাকবেন তার ছেলে আদিত্য মিত্তাল ও মেয়ে ভানিষা মিত্তাল-ভাটিয়া। এছাড়াও থাকছেন আদর পুনাওয়ালা এবং মনোজ বাদালে।

বর্তমান মালিক মনোজ বাদালে জানিয়েছেন, নতুন মালিকদের ক্রিকেট নিয়ে আবেগ এবং রাজস্থানের প্রতি টান দলটিকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাবে। তরুণ প্রতিভা অন্বেষণ এবং বিশ্বমানের দল গড়ার যে ঐতিহ্য রাজস্থানের রয়েছে, তা বজায় রাখাই হবে নতুন মালিকপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।