রাজধানীর আদাবরে পোশাক শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে দেন এমন আদেশ।
এদিন রাজধানীর রমনা মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে হাজির করা হয় আদালতে। এরপর ডিবি পুলিশের ধানমন্ডি জোনাল টিমের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন তালুকদার তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। এরপর রুবেল হত্যা মামলা তাকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালতে শুনানি হয় রিমান্ড বিষয়ে। মাঞ্জিল হায়দারের পক্ষে তার আইনজীবী কামাল হোসেন রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
গত ৯ এপ্রিল মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১০ এপ্রিল নিউ মার্কেট থানার ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে গোয়েন্দা বিভাগ। শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত ১৩ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। মামলায় গত ১৬ এপ্রিল তৃতীয় দফায় আরও পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।
রমনা মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গত ২১ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরে ২৬ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় আরও চার দিন এবং ৩০ এপ্রিল তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার বিবরণ বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে আদাবরের রিংরোড এলাকায় রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা বের করেন প্রতিবাদী মিছিল। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালান। এতে গুলিবিদ্ধ হন রুবেল। নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান। এ ঘটনায় আদাবর থানায় রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে করেন হত্যা মামলা।