মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কৌশলগত দূরত্ব বাড়ছে, একই সঙ্গে তেলনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দেখা দিচ্ছে বড় মতবিরোধ।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ওপেক নীতিমালা নিয়ে মতবিরোধের জেরে আমিরাতের সংগঠন ত্যাগের ইঙ্গিত এবং সৌদির কিছু বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রকল্পে কাটছাঁট এই দুই ঘটনা উপসাগরীয় অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একসময় যে অঞ্চলকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেখানে এখন নিরাপত্তা ঝুঁকি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা বিদেশি বিনিয়োগে আস্থাহীনতা তৈরি করছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান-এর সঙ্গে বিরোধ এবং সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, সৌদি আরব এখন তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে তুরস্ক এবং পাকিস্তান-এর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ছে। অন্যদিকে আমিরাত ইসরাইলসহ পশ্চিমা অংশীদারিত্বের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
তেল রপ্তানি ও বিনিয়োগ প্রবাহে অনিশ্চয়তা, বড় বড় প্রকল্পের গতি কমে যাওয়া এবং আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি মিলিয়ে উপসাগরীয় অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এটি স্থায়ী সংকট নয়, বরং সাময়িক ধাক্কা। কারণ জ্বালানি সম্পদ, বৈদেশিক পুঁজি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার কারণে অঞ্চলটি এখনো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।
সূত্র: এক্সিওস