কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে নুর ফাহাদ নামে ৯ মাসের এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দেশে হামের প্রকোপ শুরুর পর এটিই রোহিঙ্গা কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা।
রোববার (৩ মে) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে গত ২৯ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত জেলায় মোট ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমানে কক্সবাজারের আটটি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৩২ জনের ভর্তি থাকার তথ্য জানিয়েছে কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়।
নুর ফাহাদ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা নুর ফয়সালের ছেলে। হামের উপসর্গ নিয়ে এটিই প্রথম রোহিঙ্গা কোনো শিশুর মৃত্যু ঘটনা।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শান্তনু ঘোষ জানান, শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক রোহিঙ্গা শিশু ভর্তি হয়। রোববার শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
ডা. শান্তনু ঘোষ বলেন, শনিবার দুপুরে রোহিঙ্গা শিশুটিকে জ্বর, কাশি ও নিয়মোনিয়াসহ কিছু জটিল উপসর্গ নিয়ে অভিভাবকরা হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভর্তির পরপরই শিশুটির হামের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতির একপর্যায়ে রোববার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এখনও হাতে না আসায় হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে কি না, নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এর আগে জেলায় মৃত্যু হয়েছিল ১০ শিশুর। তারা সকলেই জেলার স্থানীয় বাসিন্দা। এর মধ্যে রামু উপজেলায় চারজন, কক্সবাজার সদর উপজেলা দুজন, কক্সবাজার পৌরসভা, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও উখিয়ায় একজন করে চারজনের মৃত্যু হয়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৯ জন এবং ছাড়পত্র নিয়েছে ৫৪ জন। আর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১৩২ শিশু। গত ২৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৩৪৭ জন।