Image description

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করায় এই আগাম প্রস্তুতির দাবি জানানো হয়।

রবিবার ( ৩ মে ) সকালে চট্টগ্রাম নগরের চৌমুহনীতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশ খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতির সভাপতি এস এম আবু মনসুর। দেশের বর্তমান আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাতের ওপর চাপ কমাতে তিনি জ্বালানি মন্ত্রীকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি বা টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি খাত স্থিতিশীল রাখতে ১০ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জ্বালানি আমদানিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন নতুন উৎস খুঁজে বের করা, যাতে প্রতিযোগিতামূলক দামে জ্বালানি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এছাড়া জ্বালানি সরবরাহ আদেশে (ডিও) স্বচ্ছতা আনতে এবং কালোবাজারি রুখতে পৃথক মনিটরিং সেল গঠন ও অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় তেল পাচার রোধে কঠোর নজরদারি এবং স্থলবন্দরগুলোতে তেলবাহী যানবাহন চলাচলে বিশেষ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এস এম আবু মনসুর। তিনি দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন নিশ্চিত করতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের তেলের মজুত সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

খাদ্যশস্য পরিবহনের গুরুত্ব তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জ্বালানি সংকটের কারণে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবহন ঠিকাদারদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম রোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানানো হয়।

জ্বালানি খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে নির্মিত সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্প দ্রুত চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়। এটি চালু হলে জ্বালানি খালাসের সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে ইস্টার্ন রিফাইনারির ইউনিট-২ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়, যা দেশের জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটাবে। মূলত জার্মানি ও জাপানের মতো উন্নত দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা মডেল অনুসরণ করে সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এই সংবাদ সম্মেলন থেকে।