Image description

চট্টগ্রামের পর্বতারোহী বাবর আলী বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত মাউন্ট মাকালুর শিখরে পৌঁছে বাংলাদেশের পর্বতারোহণে নতুন সাফল্য যুক্ত করেছেন। ধারাবাহিক অভিযানের অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতির ফলেই তিনি এই লক্ষ্য অর্জন করেছেন। শনিবার ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে তিনি মাউন্ট মাকালুর শিখরে পৌঁছান। নেপালের মহালাঙ্গুর হিমাল অঞ্চলে অবস্থিত এই পর্বতের উচ্চতা ৮,৪৮৫ মিটার বা ২৭,৮৩৮ ফুট। তার সঙ্গে অভিযানে ছিলেন শেরপা গাইড আং কামি শেরপা।

৬,৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২ থেকে ৭,৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ অবস্থান করার পর মধ্যরাতে চূড়ান্ত আরোহণ শুরু করেন তিনি। প্রায় ১,১০০ মিটার কঠিন পথ অতিক্রম করে ভোরে শিখরে পৌঁছান।

পেশায় চিকিৎসক বাবর আলী পর্বতারোহণ সংগঠন ভার্টিকাল ড্রিমার্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক। বিশ্বের ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বতারোহন সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই অভিযানে মাকালু জয় করে তিনি এখন পর্যন্ত পাঁচটি আট-হাজারি শৃঙ্গ সফলভাবে আরোহণ করেছেন।

২০১০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে তার পর্বতারোহণে যাত্রা শুরু হয়। তিনি গত ১২ বছর ধরে হিমালয়ের বিভিন্ন শিখরে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারতের উত্তর কাশীর নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে ২০১৭ সালে মৌলিক পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন তিনি। ২০২২ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হিমালয়ের অন্যতম দুর্গম ও টেকনিক্যাল চূড়া আমা দাবলাম (২২ হাজার ৩৪৯ ফুট) আরোহণ করেন।

২০২৪ সালে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (২৯ হাজার ০৩৫ ফুট) এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট লোৎসে (২৭ হাজার ৯৪০ ফুট) আরোহণ করেন। একই অভিযানে দুটি আট হাজার মিটার পর্বত আরোহণের কৃতিত্ব অন্য কোনো বাংলাদেশি পর্বতারোহীর নেই। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি বিশ্বের দশম সর্বোচ্চ পর্বত অন্নপূর্ণা-১ (২৬ হাজার ৫৪৫ ফুট) আরোহণ করেন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি কৃত্রিম অক্সিজেনের সাহায্য ছাড়াই বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম পর্বত মাউন্ট মানাসলু (২৬ হাজার ৭৮১ ফুট) আরোহণ করেন।

এটি প্রথম কোনো বাংলাদেশির কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই আট হাজার মিটার উচ্চতার শিখর আরোহণ। মাকালু জয় করে ১৪টি আটহাজারি শৃঙ্গ স্পর্শের স্বপ্নপথে আরও এক ধাপ এগিয়েছেন বাবর আলী।

২০২৪ সালে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এবং চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ লোৎসে এক অভিযানে জয় করেন। ২০২৫ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অন্নপূর্ণা-১ আরোহণ করেন এবং একই বছরে অক্সিজেন ছাড়াই মানাসলু জয় করেন। মাকালু জয়কে তার পর্বতারোহণ অভিযাত্রার ধারাবাহিক সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘এক্সপিডিশন মাকালু: দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার’ শীর্ষক এই অভিযানের আয়োজন করে পর্বতারোহণ ক্লাব ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’। ক্লাবটির সভাপতি ফরহান জামান নেপালের আউটফিটার ‘মাকালু অ্যাডভেঞ্চার’-এর স্বত্বাধিকারী মোহন লামসালের বরাতে বাবরের মাকালু শৃঙ্গে আরোহণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

‘গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান’ বা ‘মহা-কালো’ নামে পরিচিত মাকালু জয়ের উদ্দেশ্যে বাবর গত ৭ এপ্রিল দেশ ছাড়েন। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ৯ এপ্রিল তিনি উড়ে যান টুমলিংটার। সেখান থেকে গাড়িতে পৌঁছান সেদুয়া গ্রামে। এরপর পায়ে হেঁটে ১৮ এপ্রিল উচ্চতর বেজক্যাম্পে পৌঁছান।

২০১৪ সালে পর্বতারোহণে যাত্রা শুরু করেন বাবর আলী। ২০১৭ সালে ভারতের উত্তরকাশীর নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণ নেন। ২০২২ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অ্যামা দাবলাম জয় করেন। ২০২৪ সালের ১৯ মে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান চট্টগ্রামের বাবর আলী।