Image description

শাসনগাছা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ-সদস্য হাজি জসিম উদ্দিনের গাড়ি আটকে রেখে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শ্রমিকরা। এ সময় দুই ঘণ্টা আটকে ছিল তার গাড়ি। পরে সংসদ-সদস্যের আশ্বাসে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করা হয়। শুক্রবার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভরাসার বাজার এলাকায় বিক্ষোভ হয়। এদিকে চাঁদাবাজির মামলা করায় রাজশাহীতে এক বাড়ির ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে। ২৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহানগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া কাদির মন্ডলের মোড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শাসনগাছা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে দীর্ঘদিন ধরে জিবির নামে চাঁদাবাজি চলছে। চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে শুক্রবার সড়ক অবরোধ করেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। এতে দুই ঘণ্টা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিক্ষুব্ধ চালক ও শ্রমিকদের দাবি, শাসনগাছা বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রতিদিন তিন দফায় তাদের কাছ থেকে ১০০-১২০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। অথচ রসিদ দেওয়া হয় মাত্র ১৫ টাকার। শ্রমিকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হচ্ছে। বহুবার প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা সড়কে নামেন।

এ সময় সংসদ-সদস্য জসিম উদ্দিন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে ফোনে বিষয়টি জানান।

মন্ত্রী আশ্বাস দেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চালকদের ভোগান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বুড়িচং উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কাশেম মিয়াজী বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইজারাদারের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা বলেছে, নির্ধারিত টাকার বেশি জিবি আদায় করবে না।

রাজশাহীর ঘটনায় নাসিমা বেগম নামের ভুক্তভোগী এক নারী রাজপাড়া থানায় অভিযোগ করেছেন। তিনি মহানগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া কাদির মন্ডলের মোড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রতিবেশী ইমাম হোসেন, ইব্রাহিম, জাকির, ইদ্রিস আলী, শফিকুল ইসলাম ও মনির বিরুদ্ধে ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, এক বছর আগে নাসিমা বেগম বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে না চাইলে অভিযুক্তরা তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে তিনি থানায় মামলাটি করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

নাসিমা অভিযোগ করেন, আসামিদের ভয়ে তিনি তার বাসার নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা বসান। কিন্তু অভিযুক্তরা বাড়ির বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরা ভেঙে চলে যান। সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরের ফুটেজও থানায় দিয়েছেন নাসিমা বেগম।

ওই নারী বলেন, চাঁদাবাজির মামলা করার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেছে। এখন তারা যে কোনো সময় হামলা করতে পারে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। অভিযুক্ত ইব্রাহিম বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। কে সিসি ক্যামেরা ভেঙেছে সেটা আমার জানা নেই। অভিযোগের কথাও শুনিনি। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বিষয়ে আমাকে আরেকজন ফোন করেছিলেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।