শ্রমিকদের খাতায় নিজের নাম এবং অন্য মন্ত্রীদের নাম লেখাতে চান বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি দেশ গড়ার কাজে প্রত্যেককে সেই খাতায় নাম লেখার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১ মে) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের খাতায় নিজের নাম এবং অন্য মন্ত্রীদের নাম লেখাতে চাই। পাশাপাশি প্রত্যেককে দেশ গড়ার শ্রমিক হিসেবে নাম লেখানোর আহ্বান জানাই।’
এ সময় জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া ৭২ জন শ্রমিককে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন সেক্টর ধ্বংস করার মাধ্যমে শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি হয়েছে। ২০২৪ সালে মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়েছে। এখন দেশ গড়ার পালা। বিএনপি জনগণের সরকার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক মাস আগে নির্দেশনা দিয়েছি—কত দ্রুত আমরা কলকারখানা চালু করতে পারব। এই সপ্তাহে আবার মিটিং করব। বাংলাদেশের যেসব কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, পর্যায়ক্রমে চালু করব। এর বাইরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, বিদেশেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।’
শ্রমিক ও কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি শ্রমিক-কৃষকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে।’
হকারদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যানজট ও দুর্ভোগের কারণে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। হকাররা যাতে শান্তিভাবে ব্যবসা করতে পারে, আমরা সেই উদ্যোগ নিয়েছি ইতিমধ্যে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আড়াই বছর তিন বছর আগে ৩১ দফা দিয়েছিলাম—কীভাবে আমরা দেশ মেরামত করতে চাই। এখানে প্রত্যেক মানুষের কথা আছে। এই সরকার কী করতে চায়, তার বিবরণ ৩১ দফায় আছে। সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করছি।’
এ ছাড়া কৃষি ঋণ মওকুফ করা ও কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যেমন নতুন কোনো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিভাবানদের তুলে আনতেন, আমরাও সে কাজ শুরু করছি।’
খাল খননের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খাল খনন শুরু করেছি। কৃষক ভাইদের সেচ, মানুষের পানির চাহিদা পূরণ করবে। সময় এসেছে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।’
তিনি বলেন, ‘যখনই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পক্ষে যাত্রা শুরু করেছে, ধীরে ধীরে বাংলাদেশ “ইমার্জিং টাইগার” খ্যাতি পেয়েছিল।’
অভিযোগ করে তারেক রহমান বলেন, ‘অতীতের মতো ষড়যন্ত্র চলছে। ১২ তারিখ যখন তারা সফল হয়নি, তখন তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। তারা চেষ্টা করছে বাংলাদেশকে বন্ধুহীন করতে। বিশ্বদরবার দেখছে এই সরকার জনগণের নির্বাচিত। তারা গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে কথা বলছেন, বিনিয়োগ করতে চায়। আমাদের বিশ্বদরবারের সুযোগ গ্রহণ করতে হবে।’
সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, সবাইকে সজাগ হতে হবে। জেগে উঠতে হবে।’
বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নয়াপল্টনকেন্দ্রিক যেসব কর্মসূচি হয়েছে, সেসব কর্মসূচিতে বিগত স্বৈরাচার সরকারের হামলা হয়েছে। এ সময় নয়াপল্টনের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খানসহ অন্য নেতারা।