ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ রক্ষায় যুক্তরাজ্য সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন রয়্যাল এয়ার ফোর্সের প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল স্যার হার্ভ স্মাইথ। দক্ষিণ আটলান্টিকের এই ভূখণ্ড নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সঙ্গে যুদ্ধের চার দশকের বেশি সময় পরও ফকল্যান্ডের প্রতিরক্ষা যুক্তরাজ্যের জন্য কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। তার ভাষ্য, আকাশসীমা রক্ষা এবং দ্বীপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরএএফের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় অংশ না নেওয়া ন্যাটো মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টির সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে পেন্টাগনের একটি ফাঁস হওয়া নথির পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই নথিতে ফকল্যান্ডসহ ব্রিটিশ ওভারসিজ ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত ছিল।
বর্তমানে ফকল্যান্ডের আরএএফ মাউন্ট প্লেজেন্ট ঘাঁটিতে চারটি টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে স্কাই স্যাবর ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার জন্য এসব ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্যার হার্ভ উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যের আকাশসীমায় সন্দেহভাজন রুশ বোমারু বিমান মোকাবিলা থেকে শুরু করে ফকল্যান্ডে প্রতিরক্ষা এবং রোমানিয়ায় ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা মিশনে আরএএফ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে ব্রিটিশ ফোর্সেস সাউথ আটলান্টিক আইল্যান্ডসের অংশ হিসেবে ফকল্যান্ডে এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৭০০ ব্রিটিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ফকল্যান্ড আইল্যান্ডস ডিফেন্স ফোর্সের প্রায় ৪০ জন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক। জানুয়ারিতে এইচএমএস ফোর্থের পরিবর্তে এইচএমএস মেডওয়ে দ্বীপপুঞ্জের প্রধান গার্ডশিপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। ফকল্যান্ডের পাশাপাশি সাউথ জর্জিয়া ও সাউথ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জও ব্রিটিশ সুরক্ষার আওতায় রয়েছে।
পেন্টাগনের নথি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিষয়টিকে বড় করে না দেখার আহ্বান জানান। তিনি মন্তব্য করেন, এটি একটি ইমেইল মাত্র। এর প্রতিক্রিয়া অতিরঞ্জিত হয়েছে।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই ফকল্যান্ড, যাকে তারা মালভিনাস নামে উল্লেখ করে, সেই দ্বীপপুঞ্জের ওপর নিজেদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, মালভিনাস সব সময় আর্জেন্টিনারই থাকবে। আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কির্নোও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার অবসান দাবি করে নতুন করে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব যুক্তরাজ্যের হাতেই রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্র উল্লেখ করেন, দ্বীপবাসীরা গণভোটে স্পষ্টভাবে যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। যুক্তরাজ্য সব সময় তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।