Image description

পবিত্র কাবা-আল্লাহর ঘর, তাওহিদের প্রথম কেন্দ্র এবং মানবজাতির ইবাদতের ইতিহাসে সর্বপ্রাচীন পবিত্র নিদর্শন। এই ঘরের সাথে জড়িয়ে আছে আসমান-জমিনের বহু রহস্য, ফেরেশতাদের ইবাদত, নবীদের আধ্যাত্মিক সফর এবং মানব ইতিহাসের প্রথম দিককার ইবাদতের স্মৃতি। কোরআন-হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, কাবা শুধু ইবরাহিম (আ.)-এর নির্মিত একটি ঘরই নয়। বরং এর ইবাদতের ইতিহাস আরও প্রাচীন, এমনকি ফেরেশতাদের যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত।

সর্বপ্রথম এই পবিত্র ঘরে ইবাদত ও হজযাত্রা শুরু করেন ফেরেশতারা। এরপর মানবজাতির মধ্যে সর্বপ্রথম হজ পালন করেন আদম (আ.)। বর্ণনায় এসেছে, ‘আদম (আ.)-এর যুগে কাবার স্থানটি বর্তমানের তুলনায় ছোট ছিল, কিন্তু তার মর্যাদা ছিল অত্যন্ত মহান। তখন ফেরেশতারা সেখানে নিয়মিত তাওয়াফ ও ইবাদত করতেন।

পরে যখন আদম (আ.) পৃথিবীতে আগমন করেন, তখন ফেরেশতারা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কোথা থেকে এসেছেন। তিনি উত্তরে বলেন, তিনি আল্লাহর ঘরে হজ আদায় করে এসেছেন। তখন ফেরেশতারা জানান, তাঁর আগেই তারা সেখানে ইবাদত করেছেন।’ (আল হাবাইক ফি আখবারিল মালায়িক লিল ইমাম সুয়ুতি, পৃষ্ঠা : ১৮৬) 

 

এই ধারা শুধু আদম (আ.)-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

ইতিহাসে আরও জানা যায় যে, বহু নবীই এই পবিত্র ঘরে হজযাত্রা করেছেন। নবী নুহ (আ.) মহাপ্লাবনের পূর্বে কাবা শরিফে হজযাত্রা করেছিলেন। অনুরূপভাবে ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.) কাবা পুনর্নির্মাণের পর সেখানে হজ ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশ পালন করেন। এছাড়াও মুসা ও ইউনুস (আ.)-এর ক্ষেত্রেও কাবায় আগমনের বর্ণনা পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সফরে বিভিন্ন উপত্যকা অতিক্রম করার সময় এমন দৃশ্যের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি মুসা (আ.)-কে তালবিয়া পাঠ করতে করতে আল্লাহর দিকে আগমনরত অবস্থায় দেখেছেন।
অনুরূপভাবে তিনি ইউনুস (আ.)-কেও এক বিশেষ অবস্থায় তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় দেখেছেন বলে বর্ণনা করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৬৬)

 

সুতরাং পবিত্র কাবা মানব ইতিহাসে শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং এটি আসমান-জমিনের সম্পর্কের এক অনন্য প্রতীক। ফেরেশতাদের ইবাদত থেকে শুরু করে আদম (আ.)-এর হজ, এবং পরবর্তী যুগে অসংখ্য নবী-রাসুলের সফর-সবকিছুই প্রমাণ করে যে, বাইতুল্লাহ আল্লাহর নির্দেশিত প্রথম ও চিরন্তন ইবাদতের কেন্দ্র। তাই হজ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; এটি নবীদের পথ, আত্মসমর্পণের প্রতীক এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের চিরন্তন মাধ্যম।