নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান বলেছেন, গত ১৮ মাসে যারা ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছেন, সেই সুযোগ-সুবিধা এখন আর নেই। আর এই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে অস্থিরতা ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
রোববার ( ২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, অতীতে যেমন ওয়ান ইলেভেন সময়কে সেনা-সমর্থিত সরকার হিসেবে দেখা হতো, তেমনি সম্প্রতি শেষ হওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও রাজনৈতিক প্রভাব ও সুবিধাভোগের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। তার দাবি, ওই সময় যারা ক্ষমতার কাছাকাছি ছিলেন তারা নানা ধরনের সুযোগ পেয়েছেন, যা এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগে কিছু মানুষ নির্বিঘ্নে শীর্ষ প্রশাসনিক দপ্তরে প্রবেশ করতে পারলেও এখন সেই সুযোগ বন্ধ। এ কারণেই তারা বিভিন্ন জায়গায় চাপ ও অস্থিরতা তৈরি করছে বলে তার মন্তব্য।
জুলাই আন্দোলনের শহীদের সংখ্যা নিয়েও তিনি বিরোধী দলের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তার মতে, সরকারি তালিকায় ৮৪৪ জন শহীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সূত্রে সর্বোচ্চ ১৪০০ জনের কথা বলা হলেও ভিন্ন সংখ্যা উল্লেখ করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি এটিকে “ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা” বলে উল্লেখ করে বলেন, শহীদদের সংখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সমালোচনা গ্রহণ করে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন মন্তব্য ও অপপ্রচার কখনোই বাকস্বাধীনতার অংশ হতে পারে না। আন্দোলনের নামে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলকে অতীতের সুবিধাভোগী সময়ের রাজনীতি ভুলে গিয়ে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত।
শীর্ষনিউজ