ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়, যারা শিক্ষাঙ্গণে অস্ত্রের ঝনঝনানি করতে চায়, যারা রামদা-চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে তাদের রাজনীতি বিনির্মাণ করতে চায়, আমরা বেঁচে থাকতে তা হবে দেব না। আমরা বেঁচে থাকতে সন্ত্রাস কায়েম হতে দেব না।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ১০টায় রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী আমাদের প্রত্যাশা ছিল সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু আজকে আমরা দেখতে পেয়েছি, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কিছু কর্মীর করা ফেক ফটোকার্ডের ওপর ভিত্তি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু সন্ত্রাসী হত্যার হুমকি দিয়েছে। এই ফটোকার্ড ছড়ার পরপরই আল মাহমুদ পোস্টে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন যে, এই পোস্ট সে দেয়নি। এটা পুরোপুরি ভুয়া।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে সে তার জীবনের নিরাপত্তার জন্য শাহবাগ থানায় জিডি করতে (সাধারণ ডায়েরি) যায়। এ সময় তার সঙ্গে হল সংসদের ও ডাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়। কিন্তু থানায় ওসির (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সামনে তাদের ওপর হামলা হয়েছে। অথচ এই থানার দায়িত্ব সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া। এটা ইতিহাসের লজ্জাজনক অধ্যায়। আমরা দেখতে পেয়েছি, এই হামলার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আসা হয়েছে। মুসাদ্দিক, এ বি জুবায়ের, জুমা, সালমাসহ ডাকসু নেতৃবৃন্দরা উদ্ধার করতে গেলে, তাদের ওপরও নৃশংস হামলা করা হয়।
এই ঘটনায় মাস্টারদা সূর্যসেন হল সংসদের ভিপি আজিজ, হলেল আলভী, মহসিন হল সংসদের সাদিকসহ প্রায় শতাধিক সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা করে বলে অভিযোগ করেন সাদিক কায়েম। তিনি আরও জানান, আহত হয়ে এখন অনেকে হাসপাতালে আছে।
সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে ডাকসু ভিপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রশ্ন করতে চাই, এটাই কি আপনার গণতন্ত্রের চর্চা। একজন বিশ্ববিদ্যাল শিক্ষার্থী হত্যার হুমকি পেয়ে নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করতে এসে হামলার শিক্ষার হচ্ছে, এটাই কি গণতন্ত্র? এটাই কি বাংলাদেশ?
সাদিক কায়েম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা এই সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়, যারা শিক্ষাঙ্গণে অস্ত্রের ঝনঝানি করতে চায়, যারা রামদা-চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে তাদের রাজনীতি বিনির্মাণ করতে চায়, আমরা বেঁচে থাকতে তা হবে দেব না। আমরা বেঁচে থাকতে সন্ত্রাস কায়েম হতে দেব না। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস চলবে না। মাসল পাওয়ার প্রাকটিস চলবে না। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা আসবে পড়াশোনা করার জন্য। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার করবে।
এর আগে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের নামে আপত্তিকর পোস্ট ছড়ানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে স্ক্রিনশটটিকে ভুয়া দাবি করে রাত ৮টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় জিডি করতে যান ডাকসুর শিবির প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান আলভি। এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।