ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মব সন্ত্রাস, ধর্ষণ, নির্যাতন, খুন, অপহরণ, রাহাজানি ও কিশোর গ্যাং জনগণের জানমালের নিরাপত্তাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এমনকি দিনদুপুরেও বিভিন্ন যানবাহনে ছিনতাই হচ্ছে অভিনব কায়দায়। ছিনতাইকালে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করছে ছিনতাইকারীরা।
এ সব কারণে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। অপরাধ দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বাহিনীর প্রধান আলী হোসেন ফকির চরম দায়িত্বহীনতা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমান সরকারের ২ মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে দায়িত্ব গ্রহণের। এখনো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী সংগঠন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ রিকশাচালকরা থানায় গিয়ে কাক্সিক্ষত সেবা না পাওয়ায় পুলিশের উপর আস্থা হারাচ্ছেন। দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশের সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকারকে দ্রুত দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অনেক কম। চাঁদাবাজ ও নানা অপরাধে জড়িতরা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টারে রয়েছে। ফলে থানা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে সমঝোতা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সাথে কাঁচা টাকার ভাগ নিচ্ছে থানার পুলিশ কর্মকর্তারা। নিজেদের চেয়ার রক্ষায় ওসি, এএসপি ও অতিরিক্ত এসপিরা প্রভাবশালীদের শেল্টারে থাকা অপরাধীদের সঙ্গে অপোষ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার ফলে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো তো বটেই, ঢাকার আশপাশের সড়ক এবং অলিগলিতেও হরদম ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই,খুন,রাহাজানির ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খোদ পুলিশ প্রধান আলী হোসেন ফকির মাঠ পুলিশের মনিটরিং না করে ৯৯ ভাগ পুলিশ সৎ বলে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য করছেন সাধারণ মানুষ। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অতি দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো জরুরি। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতরের মধ্যে সমন্বয় করে মাঠ পুলিশের চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনতে হবে। আইজিপিকে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের পদায়নের মাধ্যমে অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমনের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর হারানো ইমেজ ফিরিয়ে আনতে হবে। বন্ধ করতে হবে সুবিধা না নিয়ে বা তদ্বির না শুনে দেশের থানাগুলোতে ওসি নিয়োগসহ মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন।
অন্যদিকে একজন এমপি হয়েও নিরাপত্তার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন নোয়াখালী-৬ আসনের এমপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ। সংসদেই আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার গাড়িতে এখনও হামলার কোপের দাগ রয়েছে। এমনকি বিটিভির এক সাংবাদিককে কুপিয়েছে এমন চিহ্নিত আসামিরাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার জন্য মসজিদে দোয়া করায় এক ইমামের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। আমাকে অস্ত্র হাতে কোপাতে আসার ভিডিও ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছেনা। সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া হচ্ছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকার গঠনের পরে গত মার্চ মাসেই সারাদেশে ৩১৭টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে রাজধানীতেই খুন হয়েছেন ২৪ জন। সব থেকে বেশি কিলিং হয়েছে চট্টগ্রামে। সেখানে মার্চ মাসে রেকর্ড পরিমাণ ৬১জন খুন হয়েছে। ঢাকায় অপহরণের শিকার হয়েছেন ২০ জন। আর সারাদেশে ১০২টি। নারী ও শিশু নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে ১৪৮৫টি। এরমধ্যে ঢাকায় ১১১টি। এছাড়া ২৮৫টি সিঁধেল চুরিসহ, ডাকাতি, ছিনতাই দস্যুতার ঘটনায় ৬৩৭টি মামলা রেকর্ড হয়েছে। অথচ গেলো ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের মাসে ঢাকায় ১৬ খুনসহ সারাদেশে আড়াইশর অধিক হত্যাকা- ঘটেছে। ওই মাসে ঢাকায় এক ডজনসহ সারাদেশে ৬৪টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিলো ১ হাজার ১৮১টি। এছাড়া এক হাজারের বেশি চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা হয়েছে। তবে থানায় রেকর্ডকৃত মামলার চেয়ে প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞমহল বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপি পুলিশের সঙ্গে জেলা পুলিশের কিংবা সদরের সমন্বয়ের অনেক ঘাটতি রয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়কার বিতর্কিত অনেক পুলিশ কর্মকর্তা পানিশমেন্টের বিপরীতে পদোন্নতি পাচ্ছেন। অনেকেই প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের ব্যবহার করে টাকার বিনিময়ে পছন্দমতো থানা ভালো ভালো জায়গায় পোস্টিং নিয়েছেন। এসব পুলিশ কর্মকর্তা পেশাগত দায়িত্ব পালনের চেয়ে অর্থ কামাতে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ.বি.এম নাজমুস সাকিব ইনকিলাবকে বলেন, সমাজে যখন হঠাৎ পরিবর্তন আসে তখন অস্থিরতা তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে ২৪ পরবর্তী সময়ে সমাজের ভেতর যে চলমান কাঠামো ছিল সেটা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সময়কালে বিচার ব্যবস্থার দুর্বল চিত্রায়ণ দেখা গেছে। বিচার এর মধ্য দিয়ে একজন ভিকটিমের ক্ষোভ প্রশমিত হয়। সামাজিক কাঠামোগত ভাবে যখন আপনি ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করতে পারবেন না তখনই মানুষকে দেখবেন প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ওঠতে এবং আইন ভঙ্গ করার কাজে লিপ্ত হতে। বর্তমানে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে এবং এই সরকার যদি ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করতে না পারেন তাহলে অদূর ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আরো বহু গুণে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিএমপির মুখপাত্র (ডিসি) এনএম নাসিরুদ্দিন ইনকিলাবকে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বক্ষণিক পুলিশের টহল, বিশেষ অভিযান, ব্লক রেইড, দেয়া হচ্ছে। বিশেষ বিশেষ জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। অপরাধমূলক যে সব ঘটনা ঘটছে, সেব ঘটনার ভিত্তিতে ও মামলার প্রেক্ষিতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। আসামিরাও গ্রেফতার হচ্ছে। আমাদের দিক থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
টেন্ডার সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে ডা. আহমেদের ওপর হামলায় গ্রেফতার-৫ : মহাখালী এলাকায় জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আহমদ হোসেনের ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। দুই প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ভয় দেখাতে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা চালানো হয়। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলো-শরিফুল আলম করিম, আমিনুল ইসলাম কালু, সালাউদ্দিন বদি, সাজ্জাদ এবং আরিফুজ্জামান। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। টেন্ডারকে ঘিরে বিরোধে জড়িত দুটি গ্রুপের মধ্যে একটি ‘রুবেলের ইএমই ট্রেডার্স’ এবং অন্যটি ‘মোনায়েম গ্রুপ’।
আইন-শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারে কোর কমিটি পুনর্গঠন : দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে কোর কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। উপসচিব কেএম ইয়াসির আরাফাত স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ), ডিজিএফআই, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, এনএসআই, এনটিএমসি, র্যাব, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
উত্তরা প্রতিনিধি জানান, উত্তরা ও আশপাশের তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ ও হামলার ঘটনা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেক্টর এলাকায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে উত্তরা ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে : তুরাগে দিনদুপুরে অটোরিকশা ছিনতাই করে চালককে হত্যা, দক্ষিণখানের মোল্লারটেক গাওয়াইর এলাকায় এক তরুণীকে মারধর করে গুরুতর আহত করা, উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে তরমুজের দাম নিয়ে মারামারি, ১৪ নম্বর সেক্টরে তুচ্ছ ঘটনায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে হামলা, দিয়াবাড়ীর ফুড কোর্টে সংবাদকর্মীর ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, বিমানবন্দর বাবুস সালাম জামে মসজিদ মার্কেটে দোকান দখলকে কেন্দ্র করে হামলা-পাল্টা হামলা এবং দক্ষিণখানে ৩ যুবদল কর্মীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা। এছাড়া উত্তরখানের মধ্যপাড়া বালুর মাঠ বেলা মার্কেট এলাকা থেকে নুর মোহাম্মদ নামের এক প্রবাসীকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলছেন, সন্ধ্যার পর জনশূন্য এলাকা ও ভাঙাচোরা রাস্তায় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা ওঁৎ পেতে থাকে। ফুটপাত দখল করে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে।
গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা জানান, গাজীপুর জেলা ও গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন জায়গায় ছিনতাইকারী ও অপহরণকারীদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়েছে যে, এতে পথচারী ও জনসাধারণ প্রতিনিয়ত রাস্তায় বেরোলেই ছিনতাই ও অপহরণ আতঙ্কে থাকে। সেই সাথে মাদকের ছড়াছড়িতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে অভিভাবকগণ। গাজীপুর মহানগরীর বিশেষ করে টঙ্গীতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়েছে যে, এখানকার পথচারীরা প্রতিনিয়তই ছিনতাই আতঙ্কে থাকেন। এর আগে এই এলাকায় ছিনতাইকারীদের হাতে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া টঙ্গী এলাকায় মাদকের ছড়াছড়িতে অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে। পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েও এখানকার মাদক নির্মূল করতে পারছে না। গত ১৫ এপ্রিল গাজীপুর মহানগরীর জয়দেবপুর রাজবাড়ী থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে অটোরিকশা যোগে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন এসএ টিভির ফটোগ্রাফার রেজা আহমেদ। এ সময় দুই তিনজন ছিনতাইকারী যাত্রী বেশে তার সাথে অটো রিকশায় ওঠেন। ধান গবেষণা গেটে আসার পর যাত্রী বেশে ছিনতাইকারীরা অটো রিকশা থেকে নেমে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়।
স্টাফ রিপোর্টার, সাভার জানান, ঢাকার সাভার ও আশপাশ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ মানুষ এখন ঘর থেকে বের হতেও আতঙ্ক বোধ করছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর শিল্পাঞ্চলখ্যাত এই এলাকার জননিরাপত্তা কার্যত ভেঙে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে সাভারের বিভিন্ন পয়েন্টে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে অপরাধমূলক কর্মকা-।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল, গেন্ডা, এবং রেডিও কলোনি এলাকায় প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। দেশীয় অস্ত্রের মুখে পথচারীদের মোবাইল, টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুটে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। এছাড়াও পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। তুচ্ছ ঘটনায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া এবং সংঘর্ষে জড়ানো এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতের আঁধারে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা ঘটছে। এমনকি গত কয়েক দিনে কয়েকটি এলাকায় সশস্ত্র ডাকাতির খবরও পাওয়া গেছে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ধামরাই (ঢাকা) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, জানা গেছে, উপজেলার প্রায় প্রতিটি হাটবাজার বাসস্ট্যান্ডসহ অলিগলিতে গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবার সহজলভ্যতায় যুবসমাজের কিছুএকটা অংশ মাদক নামক মরণ নেশায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এসব মাদক নিয়ন্ত্রণে লোক দেখানো নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ ও র্যাব। এর বিপরীতে অনেকটা হাত গুটিয়ে বসে আছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাদের মাদক উদ্ধারে তেমন সক্রিয় ভূমিকা ও তৎপরতা নেই বললেই চলে। ফলে মাদক উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আটক করতে খুব একটা দেখা যায় না। গত কয়েক মাসে মাদকের আগ্রাসন রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাত্র কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছে বলে জানা গেছে। গত ১ মার্চ স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ তমিজ উদ্দিন ২ সপ্তাহের মধ্যে মাদক নির্মূল করতে হবে এমন কথা প্রশাসনকে বললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মাদকের ভয়াবহতা দিন দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধের হার বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে নারায়ণগঞ্জ শহর ও এর আশপাশের এলাকায় একাধিক হত্যাকা-, দুর্ধর্ষ ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে রাতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অনেকেই জানান, সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন তারা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের প্রবণতা বেড়েছে। এতে ব্যবসার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিনিয়োগে অনীহা তৈরি হচ্ছে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তথ্য অনুসন্ধানে জানাগেছে. নারায়ণগঞ্জে চলতি মাসেই কমপক্ষে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ৫টি। ১৯ এপ্রিল এক ব্যবসায়ীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা বাধা দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। গত এক সপ্তাহ আগে ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে জুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।