Image description
জ্বালানি সংকট

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটের দ্রুত উন্নতি না ঘটলে বাংলাদেশে মোবাইল-ফোন ও টেলিকম সেবা বড় পরিসরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সোমবার অপারেটররা এমন সতর্কতা দিয়েছেন। ১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ তার তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯৫ ভাগ আমদানি করে। এর বেশির ভাগই আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ মোবাইল টেলিকম অপারেটরস এসোসিয়েশন (এএমটিওবি) সোমবার বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনকে (বিটিআরসি) পাঠানো এক চিঠিতে জানায়, জ্বালানি সংকটের কারণে টেলিকম সেবা চালু রাখা আর সম্ভব নয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। সংস্থাটি লিখেছে, পরিস্থিতি এখন আর অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা সতর্ক করে বলে, এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশের বড় অংশে টেলিকম নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি হবে। এএমটিওবি আরও জানায়, সংকট ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ না পাওয়া এবং ব্যাকআপ সিস্টেমের জন্য নিশ্চিত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটররা মারাত্মক সংকটে পড়েছে। সংস্থাটির মতে, ডাটা সেন্টারগুলো প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০০-৬০০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে, যা দিনে প্রতি ফ্যাসিলিটির জন্য প্রায় ৪,০০০ লিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। স্থানীয় ফুয়েল স্টেশনগুলো এই চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।

এএমটিওবি আরও জানায়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক টেলিকম স্থাপনা বর্তমানে বিপজ্জনকভাবে কম জ্বালানি মজুতের ওপর চলছে। সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, ডাটা সেন্টার বন্ধ হয়ে গেলে পুরো নেটওয়ার্কে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, আংশিক বা পূর্ণ নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকআউট হলে কল, ইন্টারনেট, এসএমএসসহ সব ধরনের সেবা বন্ধ বা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তার মতে, ডাটা সেন্টারই নেটওয়ার্কের কমান্ড হাব, যেখানে পুরো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা হয়।

এদিকে সরকার শনিবার জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। এর মধ্যে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার ১০০ থেকে ১১৫ টাকা (০.৯৩ ডলার) হয়েছে। পেট্রোল ১৬ শতাংশ বেড়ে ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা (১.০৯ ডলার) হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন মালিকরা ভাড়া পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণেই দাম বাড়াতে হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো বিশ্বই দাম সমন্বয় করছে, যুক্তরাষ্ট্রও করছে। তবে নতুন দামে তেল সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হলেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। মোটরবাইক চালক সাগর (৩০) বলেন, আমি তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। কিন্তু সামান্যই এগোতে পেরেছি। আরেক চালক জাকির মিয়া জানান, রোববার তার গাড়িতে তেল নিতে ১৬ ঘণ্টা লেগেছে। তিনি বলেন, পাম্পে মানুষকে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।