কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নওগাঁ ও কক্সবাজার জেলা থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফে গহিন পাহাড়ে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত থেকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নওগাঁয় একই পরিবারের চারজন খুন
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে রাতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং ৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, ভোরে হাবিবুর রহমানের বাবা নমির হোসেন ছেলের ঘরের দরজার সামনে রক্ত দেখতে পান। তিনি ভেতরে প্রবেশ করে খাটের ওপর চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় চারজনের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত পপি আক্তারের বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমার মেয়ে, জামাই, নাতি-নাতনিকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।
নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। ডাকাতি করার পর পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে ওই বাড়ির কর্তাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করেছে।
টেকনাফে পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার গহিন পাহাড় থেকে তিন যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—উত্তর শীলখালী এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম রবি (১৯), মৃত নুরুল কবিরের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮) এবং মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে নুর বশর (২০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকজন শ্রমিক পাহাড়ের পূর্ব পাশে কাজ করতে গেলে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো গয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কাদের জানান, সকালে স্থানীয়রা পাহাড়ের পাশ থেকে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। নিহতদের মধ্যে একজন তার আত্মীয় বলে জানান। আরও দুইজন নিখোঁজ আছে, তাদের সন্ধান পেতে খোঁজ চলছে।
বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস বলেন, পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানবপাচারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।