Image description

নানা জটিলতায় থমকে আছে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্প। ফরিদপুরের ভাঙ্গা পার হওয়ার পরই সরু সড়কে যানবাহন চলাচলে ঘটে বিঘ্ন। এ অংশে বিভিন্ন স্থান পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা।

মাদারীপুর : আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অর্থসংকট ও দীর্ঘসূত্রতায় থমকে আছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো যাত্রী। মহাসড়কের মাদারীপুর অংশের ৪৭ কিলোমিটার এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়ক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। সরকারের এককভাবে এ অর্থ জোগান দেওয়া কঠিন হওয়ায় বিদেশি দাতা সংস্থার সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু এখনো কোনো দাতা সংস্থা এগিয়ে না আসায় প্রকল্পটি স্থবির হয়ে আছে। তিনি আরও জানান, আপাতত ২৪ ফুট থেকে ৩২ ফুটে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলমান থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে সেটিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সড়ক বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালে এ মহাসড়কে প্রতিদিন প্রায় ১৯ হাজার যানবাহন চলাচল করত। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৩২ হাজারে। অথচ মাদারীপুর অংশের সড়কের প্রস্থ মাত্র ২৪ ফুট, যেখানে ফরিদপুর ও বরিশাল অংশে রয়েছে ৩২ ফুট প্রস্থ। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের যাতায়াত বেড়েছে বহু গুণ। কিন্তু সরু সড়ক ও অব্যবস্থাপনার কারণে সেই সুবিধা পুরোপুরি ভোগ করতে পারছেন না যাত্রীরা। মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্সি মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এরই মধ্যে টেকেরহাট থেকে ছয় কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি অংশ করা হবে।’ তবে ছয় লেন প্রকল্প কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি তিনি।

বরিশাল : জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার বহুল প্রতীক্ষিত প্রকল্প। এখনো অধিগ্রহণ কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় শুরুই করা যাচ্ছে না মূল নির্মাণকাজ। ফলে কবে নাগাদ এ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক চার লেনে রূপ নেবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে তিন জেলায় মোট ১৫২ একর জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। এর মধ্যে বরিশাল অংশে লাগবে ৫১ একর জমি। তবে এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণ হয়েছে মাত্র ২৭ একর, যা মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, জমি অধিগ্রহণ শেষ না হলে প্রকল্পের নকশা, ব্যয় নির্ধারণ এবং অর্থায়নের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব নয়। ফলে পুরো প্রকল্পই আটকে আছে প্রাথমিক পর্যায়ে। পটুয়াখালী : সড়ক পথে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আসা-যাওয়া করছে বিলাস বহুল পরিবহন। কিন্তু ফোর লেন সড়ক না হওয়ায় সরু সড়কে প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় বহু দুর্ঘটনা। ব্যবসায়ীদের দাবি, ফোর লেন সড়ক নির্মাণ হলে দুর্ঘটনা যেমন কমবে, তেমনই কুয়াকাটায় পর্যটকসহ অঞ্চলের মানুষ খুব অল্প সময়ে পৌঁছতে পারবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তন আসবে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলে। পটুয়াখালী সওজ সূত্র জানিয়েছে, ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা পর্যন্ত মোট ২৩৪ কিলোমিটার ফোর লেন সড়ক বাস্তবায়নে যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, তাতে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। পটুয়াখালীর লেবুখালী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৮৩ কিলোমিটার সড়কের জমি অধিগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ প্রকল্প এর আওতায় যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, সেটা ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে বরিশাল অংশে জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করা হবে। তবে বরিশালের বাইপাস সড়কের অধিগ্রহণ করা যাবে না।