সিলেট নগর রক্ষার জন্য ৪৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প এখনো ফাইলবন্দি। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী যখন মেয়র ছিলেন তখন তিনি ফ্লাশফ্ল্যাড থেকে নগর রক্ষায় এই প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে সমীক্ষা করে প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হলেও আওয়ামী লীগ সরকার সেটিকে ফাইলবন্দি করে রেখেছিল। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও একই অবস্থায় পড়েছিল। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই প্রকল্প নিয়ে সিলেটে কথাবার্তা শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে নগর প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী প্রকল্পটি নিয়ে সিলেট-১ আসনের এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেছেন। মন্ত্রীরাও এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। এ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করতে পারলে হঠাৎ বন্যা থেকে সিলেট নগরকে রক্ষা করা যাবে। একইসঙ্গে বাড়বে নগরের সৌন্দর্যও।
এদিকে, ৪৬০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের জন্য খোঁজা হচ্ছে বিদেশি অর্থায়ন। এজন্য জাইকা ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সিলেট নগর রক্ষার এ প্রকল্পের কাজের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ খোঁজা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। প্রকল্পটি সিলেটের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সিলেটের মন্ত্রীরা সহ তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে অর্থ জোগানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি বলেন, প্রকল্পে শুধু শহর রক্ষা নয়, নগরের সৌন্দর্যবর্ধন সহ সিলেট নগর বদলে দেয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের বন্যার পর তখনকার সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রকল্পটির চিন্তা শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে তখন সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করেন। কারণ ২০২২ সালের বন্যায় প্রায় ১৫ দিন নগরের অর্ধেক এলাকা পানির নিচে বন্দি ছিল। এতে করে নগরের সুরমা তীরবর্তী এলাকা স্থায়ী জলাবদ্ধতার মুখে পড়ে। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- নগরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ৯টি ছড়া ও আরও কয়েকটি উপ-ছড়া বা খাল পানিপ্রবাহের জন্য প্রশস্তকরণ, নগরের নিচু এলাকায় পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণ, নগর এলাকায় সুরমা নদীর দুই তীরে বেড়িবাঁধসহ ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও পানি প্রটেকশন দেয়াল নির্মাণ।
সব ক’টি ছড়া বা খালের সম্মুখে স্লুইচগেট নির্মাণ, পানি অপসারণের জন্য পাম্প ও রেগুলেটর স্থাপন। এর বাইরে আরও কয়েকটি কাজও এই প্রস্তাবনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সিলেট নগর রক্ষার এই প্রকল্পের অনেক কাজই হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের। ফলে বিষয়টি নিয়ে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারাও এ প্রকল্পে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রকল্পের মধ্যে সুরমা নদীর চর ও তলদেশের উঁচু এলাকা খননের কথা উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে থাকা অবস্থায় নগরকে ফ্লাশফ্ল্যাড থেকে রক্ষার জন্য সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. একে আব্দুল মোমেন হঠাৎ করেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে সুরমা নদীর তলদেশ ড্রেজিং করা হয়। খনন চলাকালে বন্যা এসে যাওয়ায় কাজটি পুরোপুরি শেষ না হতেই সব টাকা উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে আর কাজ হয়নি। ফলে সুরমা খননের পুরো টাকাটা জলে গেছে। এদিকে, বর্তমান সরকারে রয়েছেন সিলেটের দুই মন্ত্রী। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটের উন্নয়নের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। গতকাল তিনি সিলেট সফরকালে উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন- সিলেটের ক্ষেত্রে বিগত ১৭ বছর একটি শব্দ খুব প্রচলিত। সেটি হচ্ছে বৈষম্য। আমরা বৈষম্য শব্দটি মুছে ফেলতে চাই। এর কয়েক দিন আগে নগর ভবনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় তিনি বলেছিলেন, সিলেটকে বদলে দিতে কাজ শুরু করা হবে। তবে কর্মকর্তারা যেহেতু টাকাটা ব্যয় করবেন, সেজন্য তাদের আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।