যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনা ঘিরে তৈরি হয়েছে নাটকীয়তা। প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান এবারের আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন না। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। জানান, জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বেই ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে ইরানের তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ এবং নৌ অবরোধ নিয়ে সংলাপে বসা নিয়ে দ্বিধা কাটাতে পারেনি ইরান। দেশটির এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার সংলাপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে তেহরান। নৌ অবরোধ অপসারণ করে তেহরানকে আলোচনায় আনতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। তবে ওই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের বৈঠক নিয়ে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইসলামাবাদে যোগদানের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করছে তেহরান। এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হলেও এর সময় বাড়ানো হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। এর আগে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, তেহরান তাদের দাবি থেকে পিছু হটবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অবাস্তব বলে সমালোচনা করেন বাঘেই। ইরানের উচ্চপদস্থ একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেন, তেহরানের প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
শেষ হচ্ছে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ: ইসলামাবাদের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে, সংলাপে মার্কিন নৌ অবরোধই প্রধান বাধা। জবাবে ট্রাম্প এ বিষয়টি বিবেচনা করার কথা জানান। গত ৭ই এপ্রিল ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা। তবে মঙ্গলবারের ঠিক কখন এটি শেষ হচ্ছে সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো নিশ্চয়তা দেননি। যদিও পাকিস্তান বলছে, ইরানের স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় শেষ হচ্ছে সাময়িক যুদ্ধবিরতি। ট্রাম্পকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তবে নৌ অবরোধ চলবে।
সংলাপ ঘিরে অনিশ্চয়তা: ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক পোস্টকে বলেছেন, সোমবার রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। দ্বিতীয় দফার সংলাপেও মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন তিনি। এ ছাড়া এই সংলাপে থাকছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। প্রথমদিকে এই সংলাপ বয়কটের ডাক দেয় তেহরান। এতে পাকিস্তান তাদের রাজি করাতে তৎপরতা দ্বিগুণ করে। গতরাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংলাপে বসার বিষয়ে তেহরানকে ইতিবাচক মনে হয়েছে। এদিকে আলোচনা ঘিরে ইসলামাবাদকে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে পাকিস্তান সরকার। একজন নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, শহর জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত ২০ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গত শনিবার বলেছেন, আলোচনা ঘিরে দুই পক্ষের অগ্রগতি হয়েছে। যদিও পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
কূটনৈতিক সমাধান চান ইরানের প্রেসিডেন্ট: এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সংঘাত নিরসনে সবরকম জাতীয় এবং কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বন করবে তার দেশ। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ কারও স্বার্থ রক্ষা করে না। এ ছাড়াও শত্রুর প্রতি অবিশ্বাস এবং পারস্পরিক আলোচনায় স্বতন্ত্র ধারা অবলম্বন করার ওপর জোর দেন মাসুদ পেজেশকিয়ান।
যুদ্ধে শতভাগ বিজয়ের দাবি ট্রাম্পের: ইরান যুদ্ধ নিয়ে ফের বিস্ফোরক দাবি করলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরিভাবে জিতে গেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত বিজয়। ১০০ শতাংশ বিজয়। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ইরান স্থায়ীভাবে শান্তিচুক্তি না করলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করবেন কিনাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আপনারা এই বিষয়ে দেখতে পাবেন।