Image description

এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়েও একই সঙ্গে নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে রাজশাহী অঞ্চলের ২৯ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বিভাগের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁ জেলার শিক্ষকরা এই তালিকায় রয়েছেন।

গত ১৫ এপ্রিল রাজশাহী মাউশির পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই নোটিশে স্বাক্ষর করেন। কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১১ এপ্রিল শিক্ষামন্ত্রীর রাজশাহী বিভাগীয় মতবিনিময় সভার নির্দেশনা এবং ‘জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ এর ধারা ১১.১৭ (ক) অনুযায়ী, কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা আর্থিক লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের এমপিও বাতিলসহ বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। নোটিশে শিক্ষকদের স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে কেন তারা একাধিক লাভজনক পদে কর্মরত রয়েছেন, তার লিখিত জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।

মাউশির পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, ‘শিক্ষামন্ত্রীর রাজশাহী সফরের সময় একজন সাংবাদিক এই অভিযোগটি উত্থাপন করলে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আজ ২০ এপ্রিল জবাব দেওয়ার নির্ধারিত দিন থাকলেও অভিযুক্ত শিক্ষকরা সময় বৃদ্ধির আবেদন করায় আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।’

পরিচালক আরও জানান, ‘শুধু কাজি নয়, অনেক শিক্ষক সাংবাদিকতা বা ইমামতির মতো পেশার মাধ্যমেও অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই সব তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে।’WhatsApp Image 2026-04-20 at 10-14-51 PM 

WhatsApp Image 2026-04-20 at 10-14-50 PM

নোটিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—রাজশাহীর চারঘাটের দুরুল হুদা, রাবিন কুমার ও সিদ্দিক হোসেন; গোদাগাড়ীর রেজাউল রহমান, আব্দুল জব্বার ও আব্দুল মতিন; পুঠিয়ার ফজলুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক ও ভেনার আলী; বাঘার শফিকুল ইসলাম, আবুল হাসান ও আব্দুল মান্নান; বাগমারার মোতাসিম বিল্লাহ, সোহরাব হোসেন ও আব্দুল গণি। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের এনামুল হক, তানোরের আব্দুর রহিম, পবার আব্দুল খালেক এবং নাটোর ও নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষকরা এই তালিকায় রয়েছেন।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিযুক্ত শিক্ষক দাবি করেন, ‘মাউশি পুরো রাজশাহী অঞ্চল নিয়ে কাজ করলেও তালিকায় মাত্র কয়েকটি জেলার নাম এসেছে। তার দাবি, বিভাগের অন্যান্য জেলায় অনেক শিক্ষক সাংবাদিকতাসহ নানা পেশায় জড়িত থাকলেও তাদের নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’

তবে মাউশি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সকল অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।