Image description

রাজধানীর অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মোবাইলের আলোয় চলছে রোগীদের চিকিৎসাসেবা।

 

সোমবার (২০ এপ্রিল) হাসপাতালের ভেতরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু ওয়ার্ড ৪২১ নম্বরে চিকিৎসা নেওয়া বিভিন্ন ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও চিকিৎসকরা।

 

দুপুর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং করিডোরগুলো অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে রোগীদের ক্ষত পরীক্ষা ও ড্রেসিং করছে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে নোট লিখতেও তাদের মোবাইলের আলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

 

 

তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডগুলোতে রোগীদের অবস্থা নাজুক। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের শ্বাসকষ্ট এবং শারীরিক অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। অনেক স্বজন হাতপাখা দিয়ে রোগীদের বাতাস করার চেষ্টা করছেন।

 

হাসপাতালে হাম চিকিৎসাধীন এক শিশুর বাবা আবু বকর সিদ্দিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আমি বাহিরে ওষুধ আনতে গিয়ে লিফটে দুইবার আটকে যাই। এমনকি ডাক্তাররা সঠিক সময়ে চিকিৎসা দিতে পারছেন না। হাসপাতালে গরম প্রচুর তার ওপর বিদ্যুৎ নেই, এই কষ্ট বোঝানো যাবে না।

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের ট্যাক্সের টাকায় সরকার চলে। সরকারের উচিত ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে জেনারেটরের ব্যবস্থা করা।

 

 

বিদ্যুৎ না থাকায় ছেলের এক্সেরের রিপোর্ট দিয়ে ছেলেকে বাতাস করছে মা।
বিদ্যুৎ না থাকায় ছেলের এক্সেরের রিপোর্ট দিয়ে ছেলেকে বাতাস করছে মা।

 

 

নীলফামারী থেকে আসা মোহাম্মদ কামাল তার তিন বছরের হামে আক্রান্ত ছেলে ইয়াসিনকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আছেন। তিনি বলেন, সকাল থেকে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আমার ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে বারান্দায় আসছি। সরকারের কাছে আবেদন যেন হাসপাতাল থেকে বিদ্যুৎ না নেয়।

 

হাম আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা সাইমুন হোসেন বলেন, আজ চার দিন এসেছি। এতদিন বিদ্যুৎ তেমন সমস্যা করেনি, কিন্তু আজ সকাল থেকে একাধিকবার বিদ্যুৎ গেছে। যার কারণে আমার বাচ্চার শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে গেছে। এদিকে তীব্র গরমে জীবনটা যেন হাহাকার হয়ে উঠেছে।

 

সরকারের কাছে তার দাবি, সরকার যেন অন্তত হাসপাতাল থেকে বিদ্যুৎ না নেয়।

 

 

বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় হাম রোগীদের ৪২১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে সামনের খোলা বারান্দায়।
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় হাম রোগীদের ৪২১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে সামনের খোলা বারান্দায়।

 

 

এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ইদ্রিস-উল সিদ্দিকী মেহেদী বলেন, এ রকম তো আগে কখন হয়নি। আজ একাধিকবার বিদুৎ চলে গেছে। বিদুৎ চলে যাওয়ায় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ডাক্তাররা মোবাইলে লাইট জ্বালিয়ে যতটুকু পেরেছে কাজ করেছে, সেটা আপনিও দেখেছেন।