Image description

শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে মাদক সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ চক্র সড়কপথের পাশাপাশি নদীপথ ব্যবহার করে সরবরাহের নতুন নতুন রুট চালু করেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড় এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা এলাকা এখন গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে।

প্রশাসন ও বিভিন্ন সূত্র বলছে, নানা পয়েন্ট ব্যবহার করে মাইক্রোবাস, সিএনজি, মোটরসাইকেল এমনকি কৌশলে শরীরে লুকিয়ে মাদক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ শহরের জিমখানা বস্তি, চাঁদমারী, দেওভোগ, বাবুরাইল, পাইকপাড়া, বাংলাবাজার, ২ নম্বর রেলগেট, ফতুল্লার বিসিক, রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি, সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল ও সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী বিহারি ক্যাম্প বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অন্তত ২০টি পাইকারি মাদক স্পট। এসব কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন কোটি টাকার মাদক লেনদেন হচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য বিক্রয় কেন্দ্র। বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেড, ফতুল্লার বিসিক ও কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলের প্রায় ১৫০০ কারখানার ১০ লক্ষাধিক শ্রমিক ওই চক্রের প্রধান লক্ষ্য। ঘিঞ্জি আবাসন ও শ্রমিক মেসে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইনজেকশনজাত মাদক। এ অবস্থায় ধনাঢ্য পরিবারের শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে বিস্তার ঘটছে এ মরণনেশার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং অখ্যাত অনলাইন পোর্টাল কর্মীদের একটি অংশের সহযোগিতায় এ সিন্ডিকেট টিকে আছে। নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী বিহারি ক্যাম্পে অভিযান চালাতে গেলে মাদক কারবারিরা উল্টো পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার হুমকি দেয়। ফলে অনেক সময় অভিযান পরিচালনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে অভিযান থেমে নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। গত ৬ এপ্রিল আড়াইহাজারের বিশনন্দী এলাকা থেকে ২২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩ এপ্রিল শিমরাইল মোড় এলাকা থেকে গাঁজা ও হেরোইনসহ চারজনকে আটক করা হয়। একই দিনে সোনারগাঁয়ে ৩২ কেজি গাঁজাসহ একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। এর আগে ২৫ মার্চ শিমরাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে হেরোইন, ইয়াবা ও প্রায় ১৮ লাখ টাকার নগদসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ১৬ জানুয়ারি ভুলতা এলাকায় যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ইয়াবা ও ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. মিজানুর জানান, গত তিন মাসে ৫ শতাধিক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত প্রায় দুই শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় মাদক বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর এনামুল বলেন, জেলায় কতগুলো মাদক স্পট রয়েছে তা আমাদের জানা নেই। আমরা প্রতিনিয়ত মাদক কারবারিদের আটক করতে অভিযান পরিচালনা করছি। প্রতিদিনই বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।  নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জে এসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেছিলেন। এরপর থেকে আমরা এ বিষয়ে আরও জোরালোভাবে কাজ করছি এবং নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছি। রূপগঞ্জে আমাদের সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে চনপাড়ায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। এ ছাড়া আড়াইহাজার, সোনারগাঁ, বন্দর, ফতুল্লা, সদর ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই মাদক মামলার আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। শুধু সিদ্ধিরগঞ্জেই তিন মাসে প্রায় ৪০০ মাদক সংশ্লিষ্ট আসামিকে আটক করা হয়েছে।