বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় মৃত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মরদেহ হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তি ২১ বছর আগে হলফনামার মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তখন তার নাম ছিল সুব্রত পোদ্দার কানু। গোপালগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামের শুকলাল পোদ্দার ও রিতা রানী পোদ্দারের সন্তান তিনি। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিজের নাম রাখেন কাজী সোহাগ। তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকায় মমতাজ মিম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। তার মা রিতা রানী পোদ্দার সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলে জানা গেছে। সৎকারের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে মোল্লাহাটের উত্তর আমবাড়ি কালী মন্দির-সংলগ্ন শ্মশানে নেওয়া হয়।
খবর পেয়ে সেখানে এসে স্ত্রী মমতাজ মিম প্রতিবাদ জানান। ইসলাম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফনের দাবি করেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মৃতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে পূর্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। সেই বিবেচনায় সৎকারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক জানান, ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ নিয়ে তার স্ত্রী-সন্তান প্রশ্ন তুলেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন বলেন, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের ভুল-বোঝাবুঝির সুযোগ নেই। ময়নাতদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।