স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে লাগাম টেনে বই, খাতা এবং কলমের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সুইডিশ সরকার। শিশু-কিশোরদের অতিমাত্রায় স্ক্রিন আসক্তির কারণে লেখাপড়ার মানে অবনতি ঘটছে দাবি করে পুরোনো অ্যানালগ পদ্ধতিকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে।
তবে অ্যানালগ পদ্ধতির গুরুত্ব দ্বিগুণ বাড়ানোর সমালোচনা করছেন প্রযুক্তি কম্পানি, শিক্ষক এবং কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাদের মতে, এতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি নর্ডিক দেশটির অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টকহোমের ঠিক বাইরের নাকা এলাকার একটি হাইস্কুলের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা এখন স্কুল ব্যাগে ল্যাপটপের পাশাপাশি বই-খাতাও রাখছেন। কয়েক বছর আগেও বই-খাতার এতটা ব্যবহার দেখা যেত না।
১৮ বছরের সোফি নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি এখন প্রায়ই নতুন বই ও খাতা নিয়ে বাড়ি ফিরি। ক্লাসের সব লেখাই এখন প্রিন্ট করে দেওয়া হয়।
২০০০-এর দশকের শেষভাগ এবং ২০১০-এর শুরুর দিকে সুইডেনের শ্রেণিকক্ষে ল্যাপটপের ব্যবহার সাধারণ দৃশ্যে পরিণত হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মধ্যে পৌরসভার অর্থায়ন করা হাইস্কুলের প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে শুরু করেন।
২০১৯ সালে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ট্যাবলেটের বাধ্যতামূলক ব্যবহার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়।
লিবারেল পার্টির শিক্ষাবিষয়ক মুখপাত্র জোয়ার ফোরসেল বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের যতটা সম্ভব স্ক্রিন সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। উচ্চশিক্ষায় হয়তো প্রযুক্তির কিছুটা ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে কম বয়সী শিক্ষার্থী বা প্রাথমিক স্তরে একেবারেই স্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত নয়।’
সুইডেনের বর্তমান সরকারের যুক্তি হলো, স্ক্রিনবিহীন পাঠ শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখে এবং লেখাপড়ার দক্ষতার উন্নয়ন ঘটায়।