জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে ২৫তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ মারুফ আল হাসান।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমি ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই রাজশাহীতে প্রথম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিই। একজন চাকরি প্রত্যাশি ও সাধারণ নাগরিক হিসাবে ছাত্রদের এই আন্দোলনে আমার পূর্ণ সমর্থন ছিল। এক দফা আন্দোলনের ডাক আসলে ৫ আগস্ট রাজশাহী তালাইমারী মোড়ে সকাল ১০টার দিকে আমরা বিক্ষোভ মিছিলের জন্য একত্রিত হই। ১২টা ৫০ মিনিটে মিছিলটি সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টের দিকে যাওয়ার সময় আলুপট্টি মোড়ে স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ আমাদের উপর সশস্ত্র হামলা করে। সেখানে আমাদের অনেক ভাই আহত ও গুলিবিদ্ধ হয়। কিছু সময়ের জন্য আমরা পিছু হটতে বাধ্য হই।
জবানবন্দিতে গুলিবিদ্ধ মারুফ বলেন, কিছুক্ষণ পর আমরা সংগঠিত হয়ে মিছিল নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। এরপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে একযোগে হামলা করে। তখন একটি গুলি আমার ডান হাতের কব্জি উপরে লাগে। সাক্ষী তার গুলিবিদ্ধ হওয়া ডান হাত ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করেন। আমার ডান হাতে গুলি লেগে আরেক পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। তখন আমি মিছিল থেকে পিছু হটতে বাধ্য হই এবং একটি গলি পথ দিয়ে রিকসা নিয়ে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই। সেখানে আমার হাতে প্রথমবার অস্ত্রপচার করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে আমি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হই। সেখান থেকে আমাকে ঢাকা নিউরো সাইন্স হাসপাতালে রেফার করা হয়। নিউরো সাইন্স হাসপাতালে এক সপ্তাহ চিকিৎসা গ্রহণ করার পর আমাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হলে সেখানে আমার দ্বিতীয় অস্ত্রপচার করা হয়। আমি এখনো চিকিৎসাধীন আছি এবং আমি এখনো ডান হাতে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারি না।
সাক্ষী আরো বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানতে পারি ৫ আগস্ট আমাদের মিছিলে সাকিব আঞ্জুম নামে আমাদের একজন শহীদ হয়েছেন। ৮ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাথায় গুলিবিদ্ধ আলী রায়হান শহীদ হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও ভিডিওতে দেখেছি রুবেল নামে একজন দুই হাতে গুলি করছে। পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের অনেক নেতাকর্মীরা গুলি করেছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, যুবলীগের সভাপতি পরশ ও সাধারণ সম্পাদক নিখিল, আরাফাত, নাছিম, ছাত্রলীগের সাদ্দাম, ইনান, রাজশাহীর রুবেল, রোজেলসহ আরো অনেকে, যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।