Image description

নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক প্রোফাইল একটি বিবৃতি প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে, ৯৮৮ জন ‘সম্মিলিত আইনজীবিগণ’ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে পাস হওয়া “স্বৈরতান্ত্রিক আইন প্রত্যাখ্যান” করে বিবৃতি দিয়েছে। 

উক্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা, বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্ট সহ দেশের বিভিন্ন আদালতের আইনজীবিগণ, জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া "সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬" এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই অসাংবিধানিক, কালো আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

বিবৃতিতে নাম রয়েছে এমন একাধিক আইনজীবী দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছেন যে, তারা এ ধরণের বিবৃতি সম্পর্কে জানেননা। এছাড়াও, বিবৃতিতে জামালপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এইচ. আর. জাহিদ আনোয়ার এর নাম রয়েছে, যিনি ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে মারা গিয়েছেন। 

বাংলার চিঠি নামক একটি ওয়েবসাইটে তার মৃত্যুর খবর নিয়ে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “জামালপুরের বর্ষিয়াণ আওয়ামী লীগ নেতা, জামালপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির (এফপিএবি) সাবেক মহাসচিব বিশিষ্ট আইনজীবী এ এইচ আর জাহিদ আনোয়ার আর নেই। তিনি ২৯ ডিসেম্বর সকাল পৌনে ৯টায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।”

বিবৃতিতে নাম থাকা কয়েকজন আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করে দ্য ডিসেন্ট। 

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট আহসান তারিক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডিসেন্ট কে বলেন, “আমি এমন কোনো বিবৃতি সম্পর্কে জানিনা, এটা আমার নলেজে নাই। আমি কোনো বিবৃতিতে সম্মতি দেইনি।”

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুফি মোহাম্মদ আল-মামুন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমি এই প্রথম শুনলাম, আমি এটা সম্পর্কে কিছুই জানিনা। আমি এমন কোন বিবৃতি দেইনি।”

উল্লেখ্য, পূর্বেও দ্য ডিসেন্ট “হাসিনার পক্ষে বিবৃতিতে 'অজান্তে' ব্যবহার করা হয়েছে অনেক শিক্ষকের নাম” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, “বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০১ জন স্বাক্ষর করেছেন বলে উল্লেখ করা হলেও মোট ৬৫৯ জন শিক্ষকের নাম যুক্ত করা হয়েছে। এদিকে বিবৃতিতে নাম রয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন ১৫ জন শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করে বিবৃতির বিষয়ে জানতে চায় দ্য ডিসেন্ট। তাদের সবাই বলেছেন তারা এই বিবৃতির বিষয়ে কিছুই জানেন না।”