রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বিএনপির সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, জুলাই সনদ কোনো কথামালার রাজনীতি নয়, কোনো শব্দের সমাহার নয়। এটি বাস্তবধর্মী একটি ব্যবস্থা। এ সনদে মানুষের স্বার্থ জড়িত, আকাঙ্ক্ষা জড়িত, রক্তের অক্ষরে লেখা দাবি জড়িত। তাই এটিকে বাস্তবায়নের জন্য পদ্ধতিগত আলোচনা দরকার। সরকারি দলের এই সদস্য বলেন, ‘বিরোধী দলের সদস্যরা অনেক সময় ‘কানকথা’নির্ভর রাজনীতি করেন। কিন্তু আমাদের উচিত সমস্যার সমাধানের দিকে যাওয়া।’
আজ বুধবার সংসদ অধিবেশনে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে দল দুটি সুযোগ বুঝে অংশ নিয়েছে।
মিলন বলেন, ‘আপনারা আন্দোলনে এসেছেন। কখন করেছেন, কোন সময় করেছেন, কোথা থেকে এসে করেছেন—আমরা জানি। কিসের নিচ থেকে এসেছেন, এটা বলতে চাই না, সবাই জানে।’
গাজীপুরের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘যখন খালেদা জিয়াকে বন্দি করে, তারেক রহমানকে বিদেশে পাঠানো হয়, হাজার হাজার মানুষকে খুন করা হয়, ইলিয়াস আলী উধাও হয়ে যায়—এসব নিয়ে আন্দোলন চলার সময় যখন হত্যাকাণ্ড হয়, এই ভাইদের কিন্তু আমরা তেমন একটা দেখিনি। কাজেই হাজারো রক্তের বিনিময়ে, গত ১৬–১৭ বছর যা চলল তার একেবারে শেষে, সুযোগ বুঝে আপনারা এখানে অংশ নিয়েছেন। এই আন্দোলনকে কুক্ষিগত করার জন্য প্রতিদিনই সংসদে মাননীয় স্পিকার বলে একটা কথা বলে, সনদ নিয়ে কথা বলেন।’
মিলন বলেন, ‘আমরা সনদও বুঝি, ব্যাখ্যাও বুঝি, সংস্কারও বুঝি। কিছু বোঝার কিন্তু বাকি নেই। মানুষকে বুঝতে দেন। সঠিক পথে আসেন। ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করেন।’
এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির, লিখে রেখো একবিন্দু দিলেম শিশির। আরে শিশিরের পাতা থেকে এক ফোঁটা ফেলে দিঘিকে বলে, মনে রাখিস। অথচ পুরো শৈবালের অস্তিত্বই নির্ভর করছে পুরো পানির ওপরে। তাঁরা ওই শিশির বিন্দুর মতো শেষে যোগ দিয়ে এখন বিভিন্ন চিৎকার করছেন। এগুলো করার দরকার নেই। ভালোভাবেই আছেন। উভয় মিলেই দেশকে গড়ে তুলতে চাই, সেই সহযোগিতা কামনা করি।’
মিলন বলেন, ‘হঠাৎ করে ওয়াকআউট, এদিক-ওদিক তাকানো—এগুলো বাদ দিয়ে মানুষের কল্যাণে আমরা সকলেই কাজ করতে চাই। দুটো জিনিস মানুষকে শেখানো যায় না। একটা হলো গানের গলা, অন্যটি হলো বিনয়। এটা ধারাবাহিকভাবে চলে।’
শীর্ষনিউজ