জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন আদায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৩টি গুরুত্বপূর্ণ দেশ সফরে যাচ্ছেন। এই কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপের মূল লক্ষ্য হলো, ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা
তুরস্কের আঙ্কারায় আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে অংশগ্রহণ, ব্রাসেলসে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক প্রক্রিয়া সই এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের সদরদপ্তর আদ্দিস আবাবায় ভোটের প্রচারণাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
তিন দেশেই মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের পৃষ্ঠপোষকতায় তুরস্কে ১৭-১৯ এপ্রিল পঞ্চম আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন এবং ফোরামে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা ত্যাগ করবেন। ফোরামের ফাঁকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিকেনের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া, ফোরামে অংশ নিতে আসা বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধি প্রধানদের সঙ্গেও তার সাক্ষাতের সুযোগ হবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর গত মার্চের মাঝামাঝিতে তুরস্ক সফর করেছিলেন খলিলুর রহমান। সে সময় তিনি ভোট চাইতে তুরস্ক সফরে যান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিকেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি এ সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রচারের সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রাসেলস সফর নিয়ে মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, তুরস্ক থেকে আগামী ১৯ এপ্রিল ব্রাসেলস যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০ এপ্রিল ইউরোপীয় কমিশনের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কালা কালাসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি। বৈঠকে ইইউ’র সঙ্গে পিসিএ চুক্তির প্রাথমিক প্রক্রিয়া সই হবে। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ব্রাসেলসের পক্ষে কালা কালাস। এ সফরে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ছাড়াও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটে যেন ইইউ ঢাকার পাশে থাকে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে বাংলাদেশ।
সবশেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদ্দিস আবাবায় যাবেন। আফ্রিকার দেশগুলোর ভোট চাওয়াই এ সফরের মূল লক্ষ্য। আফ্রিকান ইউনিয়নের সদরদপ্তরে থাকা বিদেশি মিশনপ্রধানদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় যোগ দিয়ে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে ভোট চাইবেন।
সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে জিততে বাংলাদেশ জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রার্থিতার পক্ষে প্রচারণা চালাতে মন্ত্রী কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। তুরস্ক, বেলজিয়াম ও ইথিওপিয়া সফরের মধ্য দিয়ে ভোটের প্রচারণা আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।
শীর্ষনিউজ