বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ ও আসল সরকার পরিশোধ করবে। এ জন্য সরকারের খরচ হবে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের অপ্রত্যাশিত খাত থেকে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে অর্থমন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, কোনো ভাবেই যেন ঋণ গ্রহীতা কৃষক হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০ হাজার টাকার মধ্যে যে সকল কৃষি ঋণ বকেয়া রয়েছে তার সুদ ও আসল সরকার কর্তৃক পরিশোধের জন্য অর্থ বিভাগ কর্তৃক ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের অনুকূলে শর্তসাপেক্ষে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
তবে এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কিছু শর্ত দিয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে বলা হয়েছে, সুদ আরোপের পরবর্তী সময়ের অনারোপিত সুদ ব্যাংকগুলো নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে মওকুফ করবে।
যে পরিমান অর্থ সাসপেন্স হিসাবে স্থানান্তরিত হয়েছে সেই অর্থ ব্যাংক কর্তৃক অবলোপন করে এ দায় নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং এ সংক্রান্ত কোনো মামলা থাকলে তা ব্যাংকগুলোকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ওই সকল তথ্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যায়ক্রমে নিরীক্ষা সম্পন্ন করবে। নিরীক্ষিত চূড়ান্ত হিসাব পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের কাছে পাঠাবে। এর ভিত্তিতে নিরীক্ষিত অংশের দায় সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করবে।
এই দায় সরকার কর্তৃক গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের দায় সংশ্লিষ্ট কোনো মামলা থাকলে তা ব্যাংক অবিলম্বে প্রত্যাহার করবে এবং কৃষক যাতে কোনো রকম হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করবে।
মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত তথ্যাবলি প্রতি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অবহিত করতে হবে।
শর্তাবলীতে আরও বলা হয়, এই দায় সরকার কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে পরিশোধের পর কখনও যদি এমন বিষয় উদঘাটিত বা প্রমাণিত হয় যে, কোনো ব্যাংক প্রকৃত দায়ের থেকে বেশি অর্থ সরকারের কাছ থেকে গ্রহণ করেছে, তাহলে ওই ব্যাংক অনতিবিলম্বে অতিরিক্ত গৃহীত অর্থ সুদসহ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে।
বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি সকল আর্থিক বিধি-বিধান ও অনুশাসন যথাযথভাবে অনুসরণ করতেও বলা হয়েছে শর্তাবলীতে।
বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যয়ের জন্য অর্থ বিভাগ কর্তৃক এই শর্তাবলী অনুসরণ করে প্রয়োজনী কার্যক্রম গ্রহণ করে বিভাগকে জরুরি ভিত্তিতে অবহিত করতে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।