Image description

পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি বিতরণ প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ফুয়েল পাস চালু করেছে সরকার। ফুয়েল পাস বিডি অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হয় এই পাস। দুই পাম্পে শুরুতে পাইলটিং ভিত্তিতে এটি চালু করলেও এখন ঢাকার ৭টি পাম্পে এই পাসের মাধ্যমে তেল কেনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। পুরো প্রক্রিয়া সহজ করতে এই ব্যবস্থা নিলেও ভোগান্তি বেড়েছে ফুয়েল পাসে। সাতটি পাম্পে পাস বাধ্যতামূলক হলেও পাস ছাড়াই নেয়া যাচ্ছে তেল। রেজিস্ট্রেশন করা যাচ্ছে না। রেজিস্ট্রেশন করলেও কিউআর কোড কাজ করছে না। কেউ কেউ জানেনই না ফুয়েল পাস কী। সোমবার পাস চালু করা পাম্পগুলোর মধ্যে একাধিক পাম্পে গিয়ে এসব চিত্র দেখা গেছে।

তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, আসাদ গেটের সোনার বাংলা ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার এবং কল্যাণপুরের খালেক সার্ভিস স্টেশনে ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে বাধ্যতামূলক করা হলেও ফুয়েল পাস অ্যাপের কারিগরি ক্রটির কারণে পাম্পগুলোতে পুরোদমে শুরু করা যায়নি ফুয়েল পাসের বাধ্যবাধকতা। ফলে আগের মতোই পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেই তেল কিনছেন চালকরা।

সোমবার দুপুরে শাহবাগ এলাকার মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, তেল কিনতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন বাইকাররা। ফুয়েল পাস নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই কারোরই। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতেই হুড়মুড় করেই নগদ টাকা দিয়ে তেল কিনছেন চালকরা। তেল অপারেটররা জানান, ফুয়েল কার্ড সিস্টেম এখনো চালু হয়নি পাম্পটিতে। পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এখনো সেখানে ফুয়েল পাস চালু হয়নি। কারণ ফুয়েল পাসের সার্ভারে ত্রুটি। ফলে তারা আগের নিয়মেই তেল বিক্রি করছেন। একইদিন তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে গিয়েও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সেখানে পাম্পের প্রবেশমুখের ফুয়েল পাসসংক্রান্ত একটি পোস্টার টানিয়ে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের দু’জন ভলান্টিয়ারকে দেখা গেছে সেখানে। তারা ফুয়েল পাসের তথ্য যাচাই, রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত কাজগুলো করছেন। পাম্পটিতে দেখা গেছে, লাইন ধরে এসে তেল নেয়ার মেশিনের অন্তত ৩০ মিটার সামনের এলে ফুয়েল পাস ও নন-পাস চালকদের আলাদা করা হচ্ছে। আবার অনেকেই জানেনই না ফুয়েল পাস দিয়ে আলাদা করে বেশি পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে কিংবা ফুয়েল পাসের চালকদের আলাদা করে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ওদিকে ভোগান্তি কমাতে ফুয়েল পাস চালু হলেও ভোগান্তি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বাইকাররা। খোদ বিপিসি’র ভলান্টিয়াররাই জানিয়েছেন ক্রটির কথা। বাইকাররা বলছেন, ফুয়েল পাসের রেজিস্ট্রেশন করার জন্য অনেকেই দু’দিন ধরেই চেষ্টা করছেন, কিন্তু সার্ভার ডাউন হয়ে আছে। তাদের কেউ বলছেন ওটিপি কোড পাচ্ছেন না। কেউ বলছেন, ইনপুট করা তথ্যগুলো ‘ভুল’ দেখাচ্ছে। আবার অনেকেই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করলেও তেল নিতে এসে সার্ভার ডাউনের ফলে কাঙ্ক্ষিত সময়ে স্ক্যান করে তথ্য যাচাই করতে পারছিলেন না। চালকরা অভিযোগ করে বলেন, এই অ্যাপে উল্টো বিড়ম্বনা বেড়েছে। বিপিসি’র এক ভলান্টিয়ার জানান, তিনি দীর্ঘক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও নতুন করে অ্যাপে কাউকে রেজিস্ট্রেশন করে দিতে পারছেন না। যাচাইয়ের জন্য রোববার সন্ধ্যায় ফুয়েল পাস রেজিস্ট্রেশনের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও ঢোকা যায়নি ওয়েবসাইটে। ‘ওয়েবসাইটের মেনটেইন্যান্সের কাজ চলছে’ বলে একটি নোটিশ দেয়া ছিল সাইটে।

ট্রাস্ট ফিলিং স্ট্রেশনে তেল নিতে এসে আবু সায়েদ নামের একজন রাইড শেয়ার বাইকার বলেন, ভোর সাড়ে ৫টায় দাঁড়িয়েছি লাইনে। পাম্পের মুখে আসার পর পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যাপের আপডেট এসেছে। আপনারা নতুন করে লগইন করে কিউআর কোড বের করেন। এরপর স্ক্যান করে যাচাই করুন। আমরা কিউআর নিয়ে এসে দেখি সেটি আর কাজ করছে না। এই সাইট নিয়ে আরও ভালোভাবে কাজ করতে হবে সরকারকে। যাতে এভাবে ভোগান্তি না হয়।

ফুয়েল পাসের অ্যাপ সামনে তুলে ধরিয়ে আরেকজন বাইকার বলেন, ‘এই দেখুন ফুয়েল পাস অ্যাপে ঢুকতেই পারছি না।
সকাল সাড়ে ১০টায় লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুরে আড়াইটায় তেলে নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন কবির হোসেন নামের এক চালক। তিনি পাম্পে তেল দেয়ার মেশিনের একদম মুখে এসে জানতে পারেন ফুয়েল পাস যাচাই করা হচ্ছে। কবির বলেন, গত ৫-৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এখন জানতে পারলাম ফুয়েল পাস দিয়ে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। অথচ এখানে (পাম্পে) কেউ কিছু জানায়নি। এখন আর ফুয়েল পাস দেখাবো না। ৫ ঘণ্টা সময় অপচয় করে এখন এটা দেখিয়ে কি লাভ?
জনি নামের আরেকজন গ্রাহক বলেন, আমার ফুয়েল পাস আছে। কিন্তু কথা ছিল যাদের ফুয়েল পাস আছে তাদের আলাদা লাইন করে দেবে। কিন্তু এখানে একটি লাইনই করা হয়েছে। তাহলে আমার পাস থেকে কি উপকার হলো? জহির নামের আরেকজন চালক লাইনের পেছন থেকে বিপিসি’র একজন ভলান্টিয়ারকে ডেকে বলতে দেখা যায়, ‘আমার অ্যাপস আছে, কিউআর কোড আছে, কিন্তু স্ক্যান করা যাচ্ছে না।’

ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে নিয়োজিত বিপিসি’র ভলান্টিয়ার শহিদুল বলেন, আমাদের কাজ কিউআর কোড যাচাই করা। যাদের কিউআর কোড আছে তাদের আলাদা করে আমরা বলে দিচ্ছি এবং তারা ১০ লিটার করে তেল নিতে পারছেন। সার্ভার ডাউন নিয়ে তিনি বলেন, গতকালকে সার্ভার ডাউন ছিল আজকে আবার ঠিকঠাক মতো চলছে। শহিদুলের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই অন্য একজন ভলান্টিয়ার যিনি রেজিস্ট্রেশনের কাজে নিয়োজিত। তিনি বলেন, ‘অনেকক্ষণ ধরেই চেষ্টা করছি সার্ভারে ঢোকা যাচ্ছে না, রেজিস্ট্রেশন করতে পারছি না।’

ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজুল করিম মানবজমিনকে বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী ফুয়েল পাস দেখে তেল দিচ্ছি। যাদের কার্ড আছে তাদের ১০ লিটার করে তেল দেয়া হচ্ছে। পাস যাচাই করে তেল নিতে হবে। যাদের পাস আছে তাদের তেল নেয়ার আগে আলাদা লাইন করে দেয়া হচ্ছে।