মাত্র ২২ বছর বয়সেই টেনিস দুনিয়ায় নিজের অবস্থান আরও এক ধাপ শক্ত করে নিলেন কার্লোস আলকারাজ। মন্টে কার্লো মাস্টার্সে শিরোপা হাতছাড়া হলেও টুর্নামেন্টের রানারআপ হওয়া এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে তার ক্যারিয়ারের মোট প্রাইজমানি আয় পৌঁছে গেছে প্রায় ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে (প্রায় ৭৯২ কোটি টাকা)। এই অঙ্ক তাকে টেনিস ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারীদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে তুলে এনেছে, যেখানে তিনি পেছনে ফেলেছেন দীর্ঘদিন শীর্ষ সারিতে থাকা ব্রিটিশ তারকা অ্যান্ডি মারেকে।
বর্তমানে তার সামনে আয় তালিকায় কেবল চারজন কিংবদন্তি অবস্থান করছেন—নোভাক জোকোভিচ, রাফায়েল নাদাল, রজার ফেদেরার এবং নারী টেনিসের মহাতারকা সেরেনা উইলিয়ামস। অর্থাৎ, বয়সের দিক থেকে এখনো ক্যারিয়ারের শুরুতে থেকেও আলকারাজ পৌঁছে গেছেন টেনিস ইতিহাসের সর্বোচ্চ সফল ও আয়কারী খেলোয়াড়দের একেবারে কাছাকাছি।
টেনিস অঙ্গনে আলকারাজের উত্থান ইতিমধ্যেই নজর কাড়ছে বিশ্লেষকদের। ২২ বছর বয়সেই তিনি পৌঁছে গেছেন ক্যারিয়ারের ১০তম মাস্টার্স ১০০০ ফাইনালে, যা তার ধারাবাহিকতার বড় প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ২০তম বড় টুর্নামেন্ট ফাইনাল, যা দেখিয়ে দেয় তিনি শুধু প্রতিভাবানই নন, বরং নিয়মিতভাবে বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করছেন।
মন্টে কার্লো ফাইনালে তাকে হারিয়ে শিরোপা জেতা ইতালিয়ান তারকা ইয়ানিক সিনারও এই তালিকায় নিজের অবস্থান আরও উন্নত করেছেন। তিনি এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে সেমিফাইনালে আলকারাজের কাছে হেরে যাওয়া জার্মান তারকা আলেকজান্ডার জভেরেভ এক ধাপ পিছিয়ে গেছেন।
সব মিলিয়ে, মাত্র ২২ বছর বয়সে আলকারাজের এই গতিপথ টেনিস বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধারাবাহিকতা, বড় ম্যাচে স্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান আয়—সবকিছু মিলিয়ে এখন প্রশ্ন একটাই, আগামী বছরগুলোতে তিনি কি টেনিস ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারীর শীর্ষে পৌঁছাতে পারবেন? বর্তমান গতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।