গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় চাকরি দেওয়ার নামে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১২ এপ্রিল) গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ তার জামিন আবেদন নাকচ করে হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে সাঘাটা থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম সাঘাটা উপজেলার মথরপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার পূর্ব অনন্তপুর গ্রামের আফজাল হোসেনের করা একটি মামলায় জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর শনিবার রাতেই তাকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদীর ছেলে রবিউল ইসলামকে মথরপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ‘ল্যাব সহকারী’ পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জাহিদুল ইসলাম। এই প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে তিনি আফজাল হোসেনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঘুস গ্রহণ করেন। কিন্তু ঘুস নিয়েও তিনি রবিউল ইসলামকে নিয়োগ না দিয়ে কৌশলে নিজের ছেলেকে ওই পদে চাকরি দেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার তাদের পাওনা টাকা ফেরত চাইলে জাহিদুল ইসলাম নানা টালবাহানা শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে ২০২৫ সালে আদালতের শরণাপন্ন হন আফজাল হোসেন। তার করা সে মামলাতেই অবশেষে আইনের আওতায় এলেন এই শিক্ষক।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীদের মধ্যে তিন থেকে চারজন তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। বাকি যারা প্রতারিত হয়েছেন, তারাও মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে জাহিদুল ইসলামের এই কর্মকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আদালতে বাদী পক্ষের আইনজীবী সাহাদুল আলম জানান, জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুধু এই একটি মামলাই নয়, বরং আরও অনেক মানুষকে প্রতারিত করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে অন্তত ১০ জনের কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুর আলম, গ্রেপ্তার শিক্ষক জাহিদুলের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতারণার শিকার অন্য ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।