Image description

নারী ছাড়া পুরুষ এবং পুরুষ ছাড়া নারীর জীবন অসম্পূর্ণ। নারী-পুরুষ সৃষ্টিগতভাবেই একে অপরের পরিপূরক। নারী-পুরুষের বৈধ মিলনের জন্য আল্লাহ বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বিয়ে করা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত। তিনি বিয়ে করতে যুবকদের উৎসাহিত করেছেন। বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর ভেতর ভালোবাসা তৈরি হয়। আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় হয়। বৈধ পন্থায় মানববংশের বিস্তার হয়।

 

স্বামী-স্ত্রীর মতো মধুর ও প্রেমময় সম্পর্ক পৃথিবীতে তেমন একটা নেই। স্ত্রীর ওপর স্বামীর যেমন অধিকার আছে, তেমনি স্বামীর ওপর আছে স্ত্রীর। পরস্পরের নানাবিধ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বামীর ওপর আবশ্যকীয় দায়িত্ব হলো, স্ত্রীর ভরণপোষণ দেওয়া। দরকারি খরচ দেওয়া।

 

স্বামী যদি স্ত্রী ও সন্তানদের আবশ্যকীয় ভরণপোষণের টাকা না দেয় বা তাদের ওপর খরচ না করে কৃপণতা করে, তাহলে স্বামীকে না জানিয়ে তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় টাকা নেওয়া জায়েজ আছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না।

 

স্বামী যদি স্ত্রী ও সন্তানদের আবশ্যকীয় ভরণপোষণ করে, তাহলে স্বামীকে না জানিয়ে তার থেকে টাকাপয়সা বা অর্থ-সম্পদ নেওয়া কোনোভাবেই জায়েজ নয়। বরং তখন না জানিয়ে নিলে চুরি হিসেবে ধর্তব্য হবে।

 

আয়েশা (রা.) বলেন, ‘মুআবিয়া (রা.)-এর মা হিন্দ রাসুলুল্লাহকে (সা.) বললেন, আবু সুফিয়ান (রা.) একজন কৃপণ ব্যক্তি। এ অবস্থায় আমি যদি তার সম্পদ থেকে গোপনে কিছু গ্রহণ করি, তাতে কি আমার গুনাহ হবে? তিনি বললেন, ‘তুমি তোমার ও সন্তানদের প্রয়োজন অনুসারে যথাযথভাবে গ্রহণ করতে পার।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২১১)

 

ইসলামি গবেষকদের মতে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যদি বোঝাপড়া ভালো হয়, দুজনের প্রতি যদি দুজনের শতভাগ বিশ্বাস থাকে, টাকা নেওয়ার প্রতি যদি স্বামীর নীরব সমর্থন থাকে, তাহলে স্বামীর পকেট থেকে তাকে না জানিয়ে স্ত্রী টাকা নিতে পারবে। এতে গুনাহ হবে না। এ কাজ চুরি হিসেবেও ধর্তব্য হবে না।

 

 

 

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে ‘স্বামীর পকেট থেকে স্বামীকে না জানিয়ে টাকা নেওয়া যাবে কি না’ প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মেয়েরা স্বামীর পকেট থেকে তখনই টাকা নিতে পারবে, যখন স্বামীর মৌন সম্মতি থাকবে। স্বামীর যদি মৌন সমর্থন না থাকে, তাহলে জায়েজ হবে না।’