Image description

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও গণপিটুনিতে কথিত পীর আব্দুর রহমান শামীম নিহতের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি। এ ছাড়া শামীমকে কোথায় দাফন করা হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পরিবার শামীমের দাফনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

 

উপজেলার ফিলিপনগরে বসবাস করতেন ‘পীর’ আব্দুর রহমান ওরফে শামীম। উচ্চশিক্ষা শেষ করে একসময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করিন তিনি। পরে ২০২১ সালে এলাকায় গড়ে তোলেন একটি দরবার শরীফ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় নানা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক।

 

শুক্রবার ‘সত্যের সন্ধানে ফিলিপনগর’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। অভিযোগ ওঠে, পবিত্র কোরআন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন শামীম। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় জনতা।

 

বিক্ষুব্ধ জনতা শামীমের দরবার শরীফে হামলা চালায়। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি।

 

ভিডিওটি পুরোনো বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আগেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তবে ভিডিওটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

 

ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও মামলা না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে। তবে পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে।

 

এদিকে রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন বলেন, ধর্ম অবমাননা করার শাস্তি দেশের প্রচলিত আইনে রয়েছে। এ ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয়দের শান্ত থাকার অনুরোধও জানান ডিআইজি।