Image description

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির পর শনিবার পাকিস্তানে আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে। এমন সময় লেবাননে চলমান ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধে দেশ দুটি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লেবাননের প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশ দুটি আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসবে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনার মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকায় থাকবে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেপ আউনের অফিস জানিয়েছে, ইসরাইল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ও সরাসরি আলোচনায় বসার জন্য দিনক্ষণ নির্ধারনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

জানা গেছে, এই বৈঠক আয়োজনের জন্য শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবানন ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতের ফোনে আলাপ হয়েছে। এই আলোচনায় লেবাননে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতও অংশ নেন।

আগে থেকেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা কমাতে চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার গতি গত ২৪ ঘণ্টায় অনেকটাই কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন বৈরুতে দায়িত্বরত আলজাজিরার সংবাদদাতা জেইনা খোদর।

শুক্রবার জেইনা খোদর বলেন, ‘গত বুধবারের সেই ব্যাপক হামলার পর থেকে আর কোনো হামলা হয়নি। বিশেষ করে বৈরুতে হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে—এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হোক বা না হোক।

আলজাজিরার এই সাংবাদিক বলেন, ‘ইসরায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, লেবাননে হামলা কমাতে ইসরায়েলের ওপর মার্কিন চাপ রয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়েই তারা এসব সংবাদ প্রচার করছে।’লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হওয়া ইসলামাবাদে হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠকের ফলাফল অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। লেবানন প্রসঙ্গ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি প্রধান অংশ ছিল বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম প্রধান অংশ ছিল লেবানন। এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করা হলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।’

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘ইরানের মিত্র হিসেবে লেবানন এবং সমগ্র প্রতিরোধ অক্ষ এই যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে এর জন্য সুনির্দিষ্ট মূল্য চুকাতে হবে এবং এর প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত কঠোর।’

এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তমতো হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেও লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় আবারও সমুদ্রপথটি বন্ধ করে দেয় ইরান। বৈশ্বিক জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে কোনো তেল বা গ্যাস ট্যাংকার প্রণালিটি অতিক্রম করেনি। তবে চারটি বাল্ক ক্যারিয়ার অর্থাৎ শুষ্ক পণ্যবাহী জাহাজ পার হতে পেরেছে।