অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ (ডিএফএটি) পরিচালিত সরকারি ভ্রমণ পরামর্শ পোর্টাল স্মার্ট ট্রাভেলার বাংলাদেশ সম্পর্কে ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করুন শীর্ষক ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ এখনো বহাল রেখেছে। অস্ট্রেলিয়ার উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল চলতি সপ্তাহে যখন বাংলাদেশ সফর করে দুই দেশের সম্পর্ক আরো গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সতকতা বহালের তথ্যটি সামনে আসায় বিষয়টি প্রবাসী কমিউনিটিতে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্মার্ট ট্রাভেলার পোর্টালের সর্বশেষ সতর্কতায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চলমান নাগরিক অস্থিরতা, বিক্ষোভ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় বিবেচনা করতে বলা হচ্ছে। বড় জমায়েত ও বিক্ষোভ সামান্য বা কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়াই সহিংস রূপ নিতে পারে।
চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল ও কক্সবাজার সম্পর্কে আলাদা বিশেষ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। অপহরণ, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। মায়ানমার সীমান্তের পরিস্থিতিকেও অস্থিতিশীল বলে চিহ্নিত করে যেকোনো সময় তা আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে এই সতর্কতা নতুন নয় এর ধারবাহিকতাও দীর্ঘ ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে ডিএফএটি বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ লেভেল-৪: ভ্রমণ করবেন না’ সতর্কতা জারি করেছিল, তখন সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থির ও বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করা হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসেও একই মাত্রার সতর্কতা বজায় ছিল, তখন সারা দেশে সেনা মোতায়েন, আইইডি হামলার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ও বিক্ষোভের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে সতর্কতার এ বিষয়টি লেভেল-৩’ এ নামিয়ে আনা হয়। যা এখনো বহাল রেখেছে অস্ট্রেলিয়া।
তবে ভ্রমণে সতর্কতা জারির বিষয়টি বহাল থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার মিল্টন ডিকের নেতৃত্বে সংসদীয় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর ও কূটনৈতিক বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি ও বাণিজ্যেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে অস্ট্রেলিয়া থেকে তরলকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০২৪ সালে ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা ৭৩ হাজারেরও বেশি।
রোহিঙ্গা সংকটেও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় অস্ট্রেলিয়া ১২৫ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা প্রদান করেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫৪ কোটি ডলারেরও বেশি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের সাথে কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, কিন্তু মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা শিথিল করতে নারাজ থাকায় এখন ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট বহাল রেখেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
প্রসঙ্গত, স্মার্ট ট্রাভেলার পোর্টালে ১৭৮টি দেশের জন্য ভ্রমণ পরামর্শ প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়া সরকার যা সে দেশের নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হয়।