Image description

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের মতো জনরায়কে মেনে না নিলে পালানোর পথ পাবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যাবেন ভারতে—নেতাকর্মীরা (বিএনপি) কোথায় যাবেন? 

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; গুম প্রতিরোধ, প্রতিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের দাবিতে আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে আমরণ অনশনে বসা তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে সংহতি জানাতে এসে এ মন্তব্য করেন তিনি। 

রাকসু জিএস আম্মার বলেন, ‘পাসপোর্ট ভিসা ঠিক আছে তো। পাসপোর্ট ভিসা করার টাইম এখনো হয়নি। সময় থাকতে জনরায়কে মেনে নেন। না হলে পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়িয়ে নেন। না হলে আপনারা কিন্তু পালানোর পথ পাবেন না। এই পথ তৈরি করতে নাকি ১৭ বছর সময় লাগছে, আপনাদের তো এখনো ২ মাসও হয়নি। আপনারা পালিয়ে কোথায় যাবেন? তারেক রহমান গেল লন্ডনে, সালাহউদ্দিন আহমেদ গেল ইন্ডিয়ায়,...রিমোট এড়িয়ার নেতাকর্মীদের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। আপনারা আবার কোথায় যাবেন? কোথায় পালাবেন আপনারা। 

যাদের পাসপোর্ট হয়নি, তারা পাসপোর্টের আবেদন করে ফেলেন। কারণ বলা যায় না, সবার জন্য ভারত থেকে হেলিকপ্টার পাঠাবে না। সবার জন্য দিল্লির ব্যবস্থা থাকবে না। আপনাদের নেতা আবার লন্ডনে চলে যাবে। আপনাদের কী হবে? তাই সময় থাকতে বাংলাদেশের জনগণের রায়কে মেনে নেন। এই তিনজন ভাইয়ের একজনের যদি কিছু হয়....রিমোট এড়িয়াতে দেখছিলাম গণভোটে সবাইকে ‘না’ ভোটে রায় দিতে বলেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।’

জানা গেছে, জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের রায় রক্ষাসহ ৩ দাবিতে আমরণ অনশনে বসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪ -২৫ সেশনের সাকিবুর রহমান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিক্ষার্থী শেখ মোস্তাফিজ অনশনের অর্ধশত ঘণ্টা পার হলেও দাবি পূরণের ব্যাপারে এখনো কোনো আশ্বাস মেলেনি। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিধ্বস্ত শরীর নিয়ে শুয়ে আছেন অনশনকারীরা। তাদের আশেপাশে বেশ কয়েকজন পাখা হাতে বাতাস করছেন। তাদের সাথে সংহতি জানাতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ ও ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন অনশনরত শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, তিন শিক্ষার্থীর এই অনশনে সংহতি জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও জুলাইয়ের শহিদ পরিবারের সদস্যরা। বুধবার রাতে রাজু ভাস্কর্যে উপস্থিত হয়ে ডাকসুর পক্ষ থেকে অনশনকারীদের সাথে সংহতির ঘোষণা দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।