Image description

সৃষ্টিগতভাবেই মানুষ নানা স্বভাবের। রুচিতেও আছে ভিন্নতা। পছন্দেও আছে অমিল। তাই একজনের পছন্দ বা রুচি অন্যজনের সঙ্গে তেমন মিলে না। অবশ্য এ ভিন্নতা বা অমিলের বিষয়টি দোষের কিছু নয়।

 

প্রায় সব খাবার যে আমার ভালো লাগবে এমন নয়। এদিকে আবার প্রতিদিনের রান্না সুস্বাদু না-ও হতে পারে। তাই যে কষ্ট করে রান্না করেছেন, তাকে অন্যায় কিছু বলা যাবে না। খাবারের দোষ ধরা যাবে না। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ হলো, খাবার হালাল হলে দোষ বা ত্রুটি না ধরা। ভালো লাগলে খাবার খাবে, অন্যথায় আদব বা ভদ্রতার সঙ্গে ফিরিয়ে দেবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনও খাবারের দোষ ধরতেন না। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনও খাবারের দোষ ধরেননি। ইচ্ছা হলে খেতেন, না হলে রেখে দিতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩৭০)

 

মহানবীর (সা.) কাছে কোনো খাবার ভালো না লাগলে তিনি দোষ ধরতেন না। চুপ থাকতেন বা খাবার রেখে দিতেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) কখনও খাবারে দোষ ধরতে দেখিনি। ভালো লাগলে খেতেন, ভালো না লাগলে চুপ থাকতেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২০৬৪)

 

খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ভুনা দব (সরীসৃপ জাতীয় বুকে ভর দিয়ে চলা একটি প্রাণী। এর শরীরের চামড়া পুরু ও মসৃণ। লেজ চওড়া, রুক্ষ, খসখসে ও অতি গিটবিশিষ্ট) আনা হলে তিনি খাওয়ার জন্য হাত বাড়ালেন। তখন তাকে বলা হলো, ‘এটা দব। তা শুনে তিনি হাত গুটিয়ে নিলেন।’ খালিদ (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এটা কি হারাম?’ তিনি বললেন, ‘না। যেহেতু এটা আমাদের এলাকায় নেই, তাই আমি এটা খাওয়া পছন্দ করি না।’ তারপর খালিদ (রা.) তা খেতে থাকেন, আর রাসুল (সা.) তা দেখছিলেন।”

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) কেন খাচ্ছেন না; তার একটি কারণ তুলে ধরেছেন, কিন্তু ওই অদ্ভুত খাদ্যের কোনো ত্রুটি বা দবের আকৃতি নিয়ে কোনো বাজে মন্তব্য করেননি তিনি। যাতে করে যারা এটা খেতে চায়, তাদের মধ্যে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি না হয়।

 

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে রসুন অথবা পেঁয়াজ খায়, সে যেন আমাদের থেকে দূরে থাকে অথবা বলেছেন, সে যেন আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে।’ (উক্ত সনদে আরও বর্ণিত আছে যে,) ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে একটি পাত্র আনা হলো, যার মধ্যে শাকসবজি ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর গন্ধ পেলেন এবং এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তাঁকে সে পাত্রে রাখা শাকসবজি সম্পর্কে অবহিত করা হলো, তখন একজন সাহাবি আবু আইয়ুব (রা.)-কে বললেন, ‘তাঁর কাছে এগুলো পৌঁছে দাও। কিন্তু তিনি তা খেতে অনীহা প্রকাশ করলেন।’ তা দেখে রাসুল (সা.) বললেন, ‘তুমি খাও। আমি যার সঙ্গে গোপন আলাপ করি, তাঁর সঙ্গে তুমি আলাপ করো না (ফেরেশতাদের সঙ্গে আমার আলাপ হয়। আর তারা দুর্গন্ধ অপছন্দ করেন)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮১৭)