Image description

কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে টেপ লাগানো অবস্থায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় চিকিৎসকের ভাষ্য, প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরে ধর্ষণের আলামত মিলেছে।

 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যায়। অনুষ্ঠান শেষে দুপুর ২টায় স্কুল ছুটি হলেও সে বাড়ি ফিরে আসেনি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর পরিবার ও স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিলেও তার সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে ওই ছাত্রীকে স্কুলের একটি কক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

 

এ ঘটনায় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক ও নৈশপ্রহরীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে।

 

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের দপ্তরির কাছে গিয়ে বিদ্যালয় তল্লাশির জন্য চাবি চায়। কিন্তু দপ্তরি চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং দাবি করেন বিদ্যালয়ে কেউ নেই। তার এই রহস্যজনক আচরণে স্থানীয়দের সন্দেহ বেড়ে যায়। একপর্যায়ে পিয়নের সঙ্গে গ্রামবাসীর হাতাহাতি হয় এবং জোরপূর্বক চাবি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন তারা। তল্লাশির এক পর্যায়ে স্কুলের দ্বিতীয় তলার একটি অন্ধকার কক্ষ থেকে মেয়েটিকে অজ্ঞান ও মুখে টেপ লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

 

 

​উদ্ধারের পর প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বলেন, ​‘বৃহস্পতিবার রাতে মেয়েটি অত্যন্ত মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আসে। প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। বর্তমানে চিকিৎসা চলছে, তবে সে এখন আশঙ্কামুক্ত।’

 

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খায়রুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। স্কুল প্রধান হিসেবে আমি এর দায় এড়াতে পারি না। অপরাধীকে শনাক্ত করতে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব ধরনের সহযোগিতা করব।’

 

​এ বিষয়ে মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরিবার বা অন্য কারও পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।’