বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) হস্তক্ষেপও কামনা করেছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দুপুরে ঢাকার মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের তথ্য পাচ্ছেন তারা। অভিযোগ করেন- নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই প্রিসাইডিং অফিসাররা এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফলের শিটে স্বাক্ষর নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষ হওয়ার পর ফলাফলের শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর করার কথা। কিন্তু সকালেই স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে, যা গুরুতর অনিয়ম।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। শেরপুরের কয়েকটি কেন্দ্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এই জামায়াত নেতা বলেন, কিছু স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্রে ঢুকে হামলা চালিয়েছে এবং ভোটারদের, বিশেষ করে নারী ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে।
প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতের পক্ষ থেকে তিনি দাবি জানান, ‘যেসব কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, সেগুলোর ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।’
একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং ও রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তিনি।
পরওয়ার বলেন, ‘চলমান ভোটগ্রহণ অব্যাহত থাকলে ভোটারদের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হবে না এবং জনগণ এমন ফলাফল মেনে নেবে না। আমরা নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের ভোট হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুটি আসনে নির্বাচিত হন। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসন তিনি ছেড়ে দেয়ায় এখন সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। আর তফসিল ঘোষণার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত হয়েছিল। সেখানে এখন সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে।