আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন শেখ হাসিনার একটি মামলা ঘিরে ‘প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা লেনদেন’ হয়েছে– ফেসবুকে এমন দাবি করে পোস্ট দেওয়ায় এমএইচ পাটোয়ারি বাবুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের অভিযোগ আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে পোস্টটিতে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল ‘এমএইচ পাটোয়ারি বাবু’ নামের ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্টধারীর বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না— তা জানতে চেয়েছেন।
ফেসবুক ঘেটে দেখা যায়, এমএইচ পাটোয়ারি বাবু কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক।
এমএইচ পাটোয়ারি বাবুর ফেসবুক পোস্ট।
ট্রাইব্যুনালের আদেশের পরে বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার নেতৃত্বে মঙ্গলবার রাতেই পুলিশের একটি দল রাজধানীর উত্তখান এবং মিরপুরে পাটোয়ারি বাবুকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে তানভীর হাসান জোহা স্ট্রিমকে বলেন, আমি নিজে এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছি এবং অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযানে অভিযুক্তকে না পেলেও তাঁর ব্যবহৃত একটি স্যামসাং ফোন জব্দ করেছি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ব্যবহার করে পfটোয়ারি বাবু ফেসবুকে সংশ্লিষ্ট পোস্ট দিয়েছেন।
তিনি বলেন, গুজব ছড়ানো ও তা প্রচারকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাটোয়ারি বাবুর পোস্টের সঙ্গে যুক্ত অর্থাৎ যারা লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করেছেন, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
নিজের ফেসবুকে এমএইচ পাটোয়ারি বাবুর পোস্টার।
ট্রাইব্যুনালের নজরে আনা ৪ এপ্রিলের ওই ফেসবুক পোস্টে এম এইচ পাটোয়ারি বাবু অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির, ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারকে জড়িয়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন।