৩৯ দিনের লড়াই ও সংঘাতের পর, দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান । তেহরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, তিনি এমন একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন, যেখানে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
একে ‘বিশ্ব শান্তির জন্য একটি বড় দিন’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান চায় এটা ঘটুক, তারা যথেষ্ট সহ্য করেছে! একইভাবে, অন্য সবাইও চায়!’
হরমুজ প্রণালিতে ট্রাফিক জট সামলাতে সাহায্য করবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা সব ধরনের সরবরাহ নিয়ে উপস্থিত থাকব এবং শুধু ‘হ্যাং আউট’ করব যাতে সবকিছু সুষ্ঠুভাবে চলে।’ ট্রাম্প আরো যোগ করেছেন, ‘এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্বর্ণযুগ হতে পারে!!!’
ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প:
যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রাক্কালে, ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এমনকি এক ভাষণে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ঠেলে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে, আমরা তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।’
ইরান চুপ করে বসে থাকার দেশ নয়। জবাবে ইরান সতর্ক করে বলে, যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী অপমান, অনুশোচনা এবং আত্মসমর্পণ’ না করা পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলবে।
বিজয় দাবি করছে দু’পক্ষই:
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে। ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়। শতভাগ। এ নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই।’ যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প একথা বলেন।
ইরানও এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের বিজয় বলে দাবি করেছে, তবে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি মানেই সংঘাতের অবসান নয়।
ইরানের সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিল। তবে সতর্ক করে বলেছে, ইরানের হাত ‘বন্দুকের ট্রিগারের ওপরেই রয়েছে। ত্রুপক্ষের পক্ষ থেকে সামান্যতম ভুল হলেও তার জবাব পূর্ণ শক্তিতে দেওয়া হবে।’
সূত্র: এনডিটিভি