Image description

জ্বর আসছে আর শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলেই হাম হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা।

 

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর তার ব্যক্তিগত চেম্বারে এশিয়া পোস্টের কাছে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

 

অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন বলেন, ‘হামের মতো আরও অনেক রোগ আছে, যেগুলো দেখতে হামের মতো কিন্তু হাম নয়। কোনো শিশুর জ্বর আসার কয়েক দিনেই জ্বরের সঙ্গে নাক দিয়ে পানি পড়া, প্রচণ্ড কাশি হওয়া, চোখ লাল হওয়া ও মুখের মধ্যে সাদা সাদা স্পট দেখা দেয়। সেই সঙ্গে জ্বরের চতুর্থ দিনে শরীরে র‌্যাশ দেখার পাশাপাশি জ্বরের তীব্রতা বেড়ে গেলে এটাকে হামের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। এ রকম হাম একটা বিশেষ ধরন নিয়ে আসে। এই সময়ে কোনো জটিলতা না থাকলে ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে হাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।’

 

এই চিকিৎসক বলেন, ‘জ্বরসহ অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেওয়ার চতুর্থ দিনে র‌্যাশের সঙ্গে সঙ্গে জ্বর চলে গেলে সেটি আর যাই হোক হাম নয়। অথচ সেটি দেখতে একই রকম। অনেক সময় দেখা যায়- চিকেন পক্সে র‌্যাশ ওঠে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিরও র‌্যাশ উঠতে পারে, এ ছাড়া হ্যান্ড ফুট মাউথ ডিজিজে র‌্যাশ আসে। কাজেই র‌্যাশ উঠলে হামে আক্রান্ত কিনা সেটি নিয়ে সংশয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে নিকটস্থ চিকিৎসক ও হাসপাতালে রোগ নির্ণয় করতে হবে।’

 

 

অধ্যাপক আবিদ হোসেন বলেন, ‘হাম একটা ভাইরাল ইনফেকশন। এটার বিপরীতে কোনো অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগস নেই। আক্রান্ত শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তার শরীরে ভিটামিন-এ ঘাটতি দেখা দেয়। খাবার খেতে পারে না। এই মুহূর্তগুলো বাচ্চাদের মুখের মধ্যে ঘা হয়, ফলে খাবার না দিয়ে পানি ও তরল খাবার দিতে হবে। এতে ডিহাইড্রেশন হবে না। এ জন্য সার্বক্ষণিক বাচ্চাদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।’

 

এই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘হামে আক্রান্ত শিশুর সবচেয়ে কমন জটিলতা নিউমোনিয়া। এ সময় দেখা যায়, বাচ্চা ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে, শ্বাস নিলে বুকের খাঁচা ভেতরের দিকে চলে যাচ্ছে। অনেক সময় শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এমন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’

 

অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন বলেন, ‌‘যেহেতু এটি সংক্রামক রোগ, কাজেই আক্রান্ত শিশুকে যতটুকু পারায় অন্যান্য বাচ্চা থেকে একটু আলাদা রাখতে হবে। সামগ্রিকভাবে হাম নিয়ে আমাদের মাঝে অনেক ভয় কাজ করে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জটিলতা হয় না। কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা হলেও সেগুলো চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব।’

 

দেশে গত কয়েকদিন ধরেই হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

 

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে ও একই সময়ে সন্দেহজনক হামে ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হাম রোগীর সংখ্যা মোট এক হাজার ৯৯ জন ও সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৫৩৪ জন।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ সময়ে সবচেয়ে বেশি হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে; যেখানে মোটা আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৬৫২ জন। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৬১১ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট সুস্থতার সংখ্যা ৬ হাজার ১৬ জন।