Image description

অবশেষে চলতি বছরের মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। টানা চার মাস বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি বা মাসভিত্তিক) ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে ৯.১৩ শতাংশে উঠেছিল। মার্চ মাসে তা কমে ৮.৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৯.১৩ শতাংশ। আগের বছরের মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৩৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) রোববার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারির পর ফেব্রুয়ারিতেও দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল; মার্চে এসে তা কমে ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয় দেশে; পরের মাস আগস্টে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে হয়েছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অক্টোবরে দেশে মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। এরপর থেকে আবার চড়তে থাকে; নভেম্বরে বেড়ে ওঠে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জানুয়ারিতে হয়েছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল দেশে। নভেম্বরে হয়েছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ; অক্টোবরে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। ২০২২ সালের জুলাই মাসে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল দেশে। এরপর আর কখনো ৮ শতাংশের নিচে নামেনি।

বিবিএসের প্রতিবেদনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.৩০ শতাংশ। তবে গত বছরের মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৯৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে এবছরের মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯.০৯ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.০১ শতাংশ। তবে এই খাতে ২০২৫ সালের মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল তুলনামূলক বেশি, ৯.৭০ শতাংশ।
৩১শে আগস্ট ঘোষিত চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি যতদিন ৭ শতাংশের নিচে না নামবে, ততদিন নীতি সুদহার কমবে না বলে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় পরিষ্কার জানিয়ে দেন সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের আমদানি শুল্ক কমিয়েছে; কোনো কোনো পণ্যের শুল্ক শূন্য করেছে।

গ্রামের পাশাপাশি শহরেও কমেছে:
মার্চ মাসে গ্রামের পাশাপাশি শহরেও মূল্যস্ফীতি কমেছে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে এই মাসে গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৯ দশমিক ২১ শতাংশ।
মার্চে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক শূন্য দুই শতাংশে নেমেছে। আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ হয়েছে।
অন্যদিকে মার্চ মাসে দেশের শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ।
মার্চে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়েছে।