Image description

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার প্রভাব সামাল দিতে কঠোর ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে সরকার। এর অংশ হিসেবে রবিবার (৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ জরুরি পরিপত্র জারি করে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ, নতুন গাড়ি ও কম্পিউটার ক্রয় এবং সুদমুক্ত অগ্রিম গাড়ি ঋণ বন্ধ করে দিয়েছে।

একইসঙ্গে পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ, আপ্যায়ন, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ও ভবন নির্মাণের মতো খাতে বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পেট্রল ও লুব্রিকেন্ট এবং ভ্রমণ খাতে ব্যয় সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ শতাংশ।

আজ থেকেই এই নির্দেশনা কার্যকর হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

পরিপত্র অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সব ধরনের যানবাহন (মোটরযান, জলযান ও আকাশযান) ক্রয় স্থগিত করা হয়েছে।

সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ঋণও আপাতত বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া পরিচালন বাজেটের আওতায় নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণ এবং নতুন কম্পিউটার বা আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনাকাটার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আপ্যায়ন খাতে অব্যয়িত অর্থের সর্বোচ্চ অর্ধেক ব্যয় করা যাবে। মন্ত্রণালয় বা বিভাগ পরিচালিত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ খরচ করা যাবে, তবে সরকারি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলো এই নিয়মের বাইরে থাকবে।

আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন নির্মাণে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে; তবে প্রকল্পের কাজ যদি ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি হয়ে থাকে, তবে বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে। কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শোভাবর্ধন কাজেও অর্ধেক অর্থ ব্যয়ের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে

জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি এড়াতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পেট্রল ও লুব্রিকেন্ট খাতে বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত পরিপত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত কোনো ব্যয় করলে ভবিষ্যতে তার বকেয়া দাবি কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও ৭০ শতাংশের বেশি খরচ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এই পরিপত্র সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, পাবলিক সেক্টর কর্পোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।