Image description

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রভাবমুক্ত একটি “স্বাধীনতার জোট” গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশগুলোর উচিত এই দুই পরাশক্তির অধীনস্থ না হয়ে নিজেদের কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখা। খবর আল মায়াদিনের।

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া এক বক্তৃতায় ম্যাক্রোঁ আন্তর্জাতিক আইন, গণতন্ত্র এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি অভিন্ন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে একটি নতুন জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সম্ভাব্য এই জোটে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ব্রাজিল, ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো দেশগুলোর অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য দুটি আধিপত্যবাদী শক্তির অধীনস্থ হওয়া নয়। আমরা চীনের আধিপত্যের ওপর নির্ভর করতে চাই না, আবার যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চয়তার কাছেও অতিরিক্ত অরক্ষিত থাকতে চাই না।”

তিনি সামরিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনা করে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষায়, “শুধু বোমা হামলা বা সামরিক অভিযানের মাধ্যমে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।”

এদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের অনুমোদন সংক্রান্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে ফ্রান্স। যদিও প্রস্তাবটির ওপর নির্ধারিত ভোট পরে স্থগিত করা হয়েছে।

ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরাইলি অবস্থানের প্রতি সমর্থন না দেওয়ায় ফ্রান্স ও ইসরাইলের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। প্যারিসের আকাশসীমা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে ইসরাইল ফ্রান্স থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ম্যাক্রোঁর এই অবস্থান বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি নতুন ভারসাম্য তৈরির প্রচেষ্টা, যেখানে মধ্যম শক্তির দেশগুলো আরও স্বাধীনভাবে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করতে পারবে।