Image description
এক বছরে ৯৯৯-এ ৩২৩৮৬ কল

নানা বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ দিনে ফোন আসে ২৫ হাজারের বেশি। এরমধ্যে নারী নির্যাতন, দুর্ঘটনা, মারামারি-সংঘর্ষ, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, অগ্নিকাণ্ড, বাল্যবিয়ের অভিযোগ রয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, গত বছরে সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, স্বামী দ্বারা নির্যাতন, বাবা-মা ও অন্যদের হাতে নির্যাতন, আত্মহত্যার প্ররোচনা, যৌতুকের দাবি ও সম্মানহানিসহ নানাবিধ সমস্যায় জাতীয় জরুরি সেবায় ৩২ হাজার ৩৮৬ জন সেবা নিয়েছে। ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী বা বাক প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি এসওএস অ্যাপস ৯৯৯-এ চালু হয়েছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে বাকপ্রতিবন্ধীদের নিরাপত্তা বাড়বে। অ্যাপসটির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ সেকেন্ডের ভিডিও ধারণ হবে এবং ভিডিওটি ৯৯৯-এর কাছে চলে আসবে।

৯৯৯-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরে এসিড সন্ত্রাসের শিকারের অভিযোগে কল ১০টি, ধর্ষণ চেষ্টা ৬৩৩টি, ইভটিজিংয়ের ঘটনায় কল ৯১৭টি, হত্যার অভিযোগে ৬৪৭টি, বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে ৪৬৭টি, আত্মহত্যার প্ররোচনা ১১টি, অপহরণের ঘটনা ৪৬টি, অন্যান্য সহিংসতা ও সমস্যায় কল ৬৫৯টি, ধর্ষণের ঘটনায় ১ হাজার ১০৭টি, যৌন হয়রানি ১ হাজার ০২৪টি, যৌন সহিংসতা ২১৫টি, স্বামী দ্বারা নির্যাতন ১৮ হাজার ৬২৬টি, অন্যদের দ্বারা নির্যাতনের অভিযোগে কল ৭ হাজার ০৮৩টি, বাবা-মায়ের দ্বারা নির্যাতনের শিকারে কল ৫৪১টি।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি মহিউল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নীতিমালা ২০২০’-এ জরুরি সেবার কার্যপরিধিভুক্ত বিষয় হিসেবে ‘নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, হয়রানি, সম্মানহানি ও ইভটিজিং’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার কলসমূহ ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেবা দিয়ে থাকে। এ ধরনের ফোনকলে ৯৯৯ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে দ্রুততার সঙ্গে জরুরি সেবা দিয়ে থাকে। ৯৯৯-এর ওপর জনগণের আস্থা ও ভরসার কারণে ৯৯৯-এ, এ ধরনের সেবা সংক্রান্ত কলের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। জনপ্রিয়তা ও ৯৯৯-এর ওপর আস্থার কারণে পারিবারিক নির্যাতন বা যৌন-হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীরা বর্তমানে আগের চেয়ে বেশি অভিযোগ করছেন বলে প্রতীয়মান হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার মানবজমিনকে বলেন, ৯৯৯-এর প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ছে। দিন দিন বাড়ছে কলের সংখ্যা। ২৪ ঘণ্টায় ২৫ হাজারের বেশি কল আসে। কখনো কখনো সেটি বেড়ে ২৬ হাজারেও পৌঁছায়। তারমধ্যে নারী নির্যাতন, সড়ক দুর্ঘটনা, মারামারি-সংঘর্ষ, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, অগ্নিকাণ্ড, এম্বুলেন্স সেবাসহ নানাবিধ কলগুলো পেয়ে থাকি। তিনি বলেন, আগের চেয়ে অযাচিত কলের সংখ্যা কমেছে। প্রথমদিকে অযাচিত কলের সংখ্যা বেশি ছিল। এই বিষয়ে সবার সচেতনতা দরকার। একই নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন আসলে তাদের কিছুদিনের জন্য ব্লক করে রাখা হয়। এর আগে তাদেরকে মেসেজ দিয়ে সতর্ক করা হয়। এই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা এবং ৬ মাসের কারাদণ্ডের কথা বলা আছে।