Image description
Ali Ahmad Mabrur (আলী আহমদ মাবরুর)
 
আমাদের দুর্ভাগ্য হলো, দেশটি আমাদের হাতে নেই। কে কোথা থেকে কী চায় আর কীভাবে দেশ চালায় তা নিয়ে রহস্য থেকেই গেল। কেবল হাসিনা নামক একজন ব্যক্তির পতনের জন্য তো এত কিছু করা হয়নি। বরং পঁচে যাওয়া একটি সিস্টেম বাদ দিয়ে নতুন করে একটি গঠনমূলক ও দেশবান্ধব প্রক্রিয়ার সূচনার জন্যই এ আন্দোলন ছিল। কিন্তু অন্য সব আন্দোলনের মতো এবারও গণ অভ্যুত্থান হলো, ব্যক্তির পতন হলো; সরকার বিদায় হলো। কিন্তু সিস্টেম যা ছিল তাই রয়ে গেল।
 
একটি নির্বাচন হলো। যেখানে ফলাফল নিয়ে কথা বলার সুযোগ রয়ে গেল। মিডিয়ার ভূমিকা; ফলাফল ঘোষণা স্থগিত; কারণ ছাড়া বিলম্ব- সবই হলো। নির্বাচন শেষ হলো। সংসদ গঠন হলো। কিন্তু একদম প্রথমেই প্রতারণাটি করলেন সরকারী দল। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অনীহা প্রকাশ করলেন। দেশটি ফ্যাসিবাদী সিস্টেমের আওতায় চলে গেল তখনই।
এত সাংবাদিক এত কথা বলেন বা লিখেন। প্রধানমন্ত্রীকে নানা কিছুর আইকন বানান। কিন্তু কেন তিনি লন্ডনে থাকতে বলেছিলেন যে, তার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তার একার ওপর নির্ভর করে না; আর তার সপ্তাহ দুয়েক পর কোন জাদুর কাঠিতে তিনি ফিরে এলেন। এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কেউ করলেন না। অনেকেই নেপথ্যে অনেক আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর কথা বলেন। আমি শুনি আর আফসোস করি। এখনো তাহলে বিহাইন্ড দ্য সিনেই রাজনীতি বেশি হয়।
 
সবচেয়ে জরুরি ছিল যে সংস্কারগুলো; প্রতিটিই বিএনপি বাদ দিয়ে দিল। অন্তর্বর্তী সরকারকে এখন অনেক বিএনপি এ্যাক্টিভিস্টও নষ্টের গোড়া, জাতীয় বেইমানসহ অনেক কিছুই বলছেন। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার কিছু সুপারিশ, কিছু অধ্যাদেশ আসলেই ভালো দিয়েছিলেন। তারা সিস্টেমের গোড়ায় হাত দিয়ে দেশে কিছু মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন।
ফ্যাসিবাদের ছোবল সবচেয়ে বেশি যে খাতগুলোকে আক্রান্ত করেছিল; কিংবা যে বিষয়গুলো হাসিনাকে ফ্যাসিবাদী হতে সহায়তা করেছিল; সেই জায়গাগুলো অন্তর্বর্তী সরকার সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিএনপি সবগুলেই খারিজ করে দিল। তারা নিজেদের ক্ষমতা আর সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে অগ্রাধিকার দিল। বিএনপির অন্যান্য সংসদ সদস্য, লাখো কর্মী- এই অন্যায় জানার পরও তা মেনে নিচ্ছে। অথচ তাদের মধ্যেও ভিকটিম রয়েছে অনেকেই।
 
হাসিনা সাড়ে ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী হয়েছে। বিএনপি হয়তো ১৫ মাসও সময় নেবে না। তবে দিন কারো একরকম যায় না। শুধু বিচারপতির অবসরের বয়স ২ বছর বাড়ানোর খেসারত বিএনপিকে বহু বছর জ্বলে পুড়ে দিতে হয়েছে। এবার জনগণের স্বপ্ন ভঙ্গের খেসারত হিসেবে হয়তো আগের চেয়েও চড়ামূল্যে দিতে হবে। সেই দু:সময়ের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে অলরেডি..হয়তো নীতি নির্ধারকেরা তা অনুধাবন করতে পারছেন না।