কুমিল্লায় প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০০ শয্যার একটি শিশু হাসপাতালের ভবন সম্পন্ন হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেটি চালু হয়নি। অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও চিকিৎসাসেবা শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিশু হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণের পাশাপাশি স্যানিটারি ও প্লাম্বিং ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগ, সড়ক, ফুটপাত, বাউন্ডারি ওয়াল এবং ডিপ টিউবওয়েলসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল এম/এস এম এন হুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুমিল্লা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ‘ওয়ার্ক ডান’ সনদও দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। সময় বাড়ানোর পর ২০২৪ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে ভবন প্রস্তুত থাকলেও এখনও চালু হয়নি হাসপাতালটি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন এবং প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায় সেবা কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।
কুমিল্লা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাদিমুল হাসান চৌধুরী বলেন, শিশুদের জটিল রোগ হলে দ্রুত ঢাকায় নিতে গিয়ে অনেক সময় বিপদ ঘটে। কুমিল্লায় এই হাসপাতাল চালু হলে রোগীরা উপকৃত হবে।
আরেক বাসিন্দা মাহিদুল বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভবন নির্মাণ করে তা ফেলে রাখা হচ্ছে, এতে সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ডা. নাজমুল হাসান নামের এক চিকিৎসক বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ঘাটতি রয়েছে। এখন বেশির ভাগ রোগীকেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা ঢাকায় যেতে হয়। নতুন হাসপাতালটি চালু হলে বড় স্বস্তি মিলবে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির বলেন, ঈদের পরে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আমাদের কাছে হস্তান্তর করার কথা।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের জানান, কাজ শেষ হলেও হস্তান্তর নিয়ে কিছু জটিলতা ছিল। এখন সিভিল সার্জন কার্যালয়ে হস্তান্তরের নির্দেশনা পাওয়া গেছে। দ্রুতই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই হাসপাতাল চালু করা যায় না। পর্যাপ্ত জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন। এসব প্রক্রিয়ার কারণে অনেক সময় দেরি হয়।